সবজির বাজারে উত্তাপ, বিপাকে নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ

অর্থ-বাণিজ্য জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা রোধে চলমান লকডাউন ও রোজাকে কেন্দ্র করে সবজির চড়া বাজারে উত্তাপ এখনও কমেনি। উল্টো প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। এ সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে শসা, টমেটো ও লেবুর দাম। ইফতার উপকরণ হিসেবে এগুলোর চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

অন্যদিকে নানা অজুহাতে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে প্রায় সব ধরনের শাকসবজির দাম। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। ৫০-৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। এ কারণে নাভিশ্বাস বেড়েছে ক্রেতাদের।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর শুক্রাবাদ, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে আলু, টমেটো, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটল, লাউ, মটরশুঁটি, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, পাতাকপি, সাজনা, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ধুন্দল, ঢেঁড়শ, লাউশাক, পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক, কচু শাকসহ সব ধরনের শাকসবজির দামই বেড়েছে।

এর মধ্যে শসা ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে এগুলোর দাম ছিল বর্তমান দামের অর্ধেক। একই সঙ্গে আলু ২৫ টাকা, টমেটো ৪৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচা কলা ৫৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, লেবু হালিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা, চিচিংগা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আঁটিপ্রতি লাল শাক ২৫ টাকা, পালং শাক ২০-২৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, পাটশাক ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারও এখন চড়া। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৩০০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১৮০-২০০ টাকা, পাবদা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া মাছ ১২০-১৩০ টাকা, বড় তেলাপিয়া মাছ ১৮০-১৯০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-১৭০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৪০-১৫০ টাকা, মাঝারি গলদা চিংড়ি ৬০০-৭০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির অতিরিক্ত দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এছাড়া ‘লকডাউনের’ কারণে সবজি পরিবহনে খরচ আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

হাতিরপুল কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা ফিরোজ মিয়া বলেন, পাইকারিভাবে সবজি কিনতেই আমাদের খরচ বেশি হচ্ছে। যার কারণে একটু বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে সবজির সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।

তবে বিক্রেতাদের এমন যুক্তি মানতে নারাজ ক্রেতারা। তারা বলছেন, রমজান উপলক্ষে সবজির চাহিদা বেশি থাকায় সুযোগে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। শুক্রাবাদ সবজি বাজারে সেলিম প্রধান নামের এক ক্রেতা বলেন, রমজান উপলক্ষে বেগুন, শসা, লেবুর চাহিদা বেশি। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম চাইছেন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ‘লকডাউন’ কোনো অজুহাত হতে পারে না। জরুরি খাদ্য পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত। সবজির সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি।

হোসেন আলী নামের আরেক ক্রেতা বলেন, সব সবজির দামই অনেক বেশি। করোনায় এমনিতেই কর্মহীন হয়ে পড়ে আছি। তার ওপর এত বাড়তি টাকা দিয়ে সব কিছু কিনতে হচ্ছে। জানি না ভবিষ্যতে কী হবে।

এছাড়াও নিত্যপণ্যের বাজারে চিনি ৬৫-৭০ টাকা, মসুর ডাল ৯৮ টাকা, মুগডাল ১২৭ টাকা, বুটের ডাল ৭৮ টাকা, খেসারির ডাল ৮০ টাকা, এংকর ডাল ৪৮ টাকা, ছোলা ৭৫ টাকা, মটর ডাল ৯০ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৮-৬৫ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৭০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৩ টাকা, সয়াবিন ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, দেশি আদা ১২০ টাকা, ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, শুকনা মরিচ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *