সবজি কাণ্ড বাজারে

সারাবাংলা

ওমর ফারুক, রাজশাহী ব্যুরো : আলুর দাম সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও কমেনি। আলুর দামের সঙ্গে সঙ্গেও বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে প্রত্যেক ধরনের সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজির উপরে। নিত্যদিন সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। কারণ যে হারে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম বাড়ছে সেভাবে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। গত বছরের পেঁয়াজ কাণ্ড ও এবারের আলুকাণ্ডের পর সবজির দামও প্রচুর বেড়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। এ নিয়ে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগের শেষ নেই। রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে সবজির দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। এখন বলা চলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
সরজমিনে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। যা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকা সত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নগরীর বাজারগুলোতে লাউ, পুুঁইশাক, কাকরল, করলা, পেঁপে, শাক, সবুজ শাক, বেগুন, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, সিম, ধনে পাতা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, কলা, আলুসহ সব ধরনের সবিজর দাম বেড়েছে এক থেকে দেড়গুণ। পুুঁইশাক ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, শাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, মুলা ৫০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও ফুলকপি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাকরল ৮০ টাকা কেজি, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আলুর দাম সরকার ৩০ টাকা কেজি বেঁধে দিলেও ক্রেতারা একদিনেও সেই দামে কিনতে পারেনি। আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে।
নগরীর কোর্ট স্টেশন বাজারে সবজি কিনতে আসা শহিদুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, যেভাবে সবজির দাম বাড়ছে তাতে কেনাই দায় হয়ে পড়েছে। যারা দাম বাড়িয়ে বেশি লাভ করার চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। লক্ষীপুরে বাজার করতে আসা রাহিদুল নামের এক ক্রেতা বলেন, এবার সারা বছরই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেশি ছিল। স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরী। সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়া খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. শরিফুল হক বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত নজরদারি করছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *