সমিতির নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অল্প সঞ্চয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দৃষ্টি সমবায় সমিতি, পল্লীসেবা সমবায় সমিতি, জন উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও নিউ দৃষ্টি সমবায় সমিতি। অথচ এসব এনজিওর বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো আইনগত ব্যবস্থা। জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সোলাইমান বিশ্বাস ও তার ছেলে মো. বাহালুল বিশ্বাস উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সমবায় সমিতির আইন অমান্য করে অধিক মুুনাফার লোভ দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঋণদানের নামে দরিদ্র, সহজ-সরল ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যা সমবায় সমিতির আইন বহির্ভূত।
স্থানীয়রা জানান, সোলাইমান বিশ্বাস ২০১০ সালে ছায়াগ্রাম নামের একটি সমবায় সমিতি ভাড়া নিয়ে এনজিও ব্যবসা শুরু করেন। এরপর সোলাইমান বিশ্বাস নিজে এবং ছেলে মো. বাহালুল বিশ্বাস নামে বেনামে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে ৪টি সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচির নামে গড়ে তুলেছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু এ সমিতিতে গচ্ছিত রাখছেন আর গ্রাহকদের সেই অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সোলাইমান বিশ্বাস ও তার ছেলে মো. বাহালুল বিশ্বাস এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) সনদ ছাড়াই সোলাইমান বিশ্বাস ও তার ছেলে মো. বাহালুল বিশ্বাস সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় দৃষ্টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, বায়রা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া এলাকায় জন উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, জয়মন্টপ এলাকায় পল্লীসেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি ও চান্দহর ইউনিয়নের বাঘুলী এলাকায় নিউ দৃষ্টি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে ফিক্সড ডিপোজিট, ডিপিএসের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
গত ১০ বছর যাবৎ এসব সমবায় সমিতির নামে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সমবায় কর্মকর্তারা। সমবায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সোলাইমান বিশ্বাস ও তার ছেলে মো. বাহালুল বিশ্বাস অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ সমবায় কর্মকর্তারা এর কোনো খোঁজ রাখছে না। রেজিস্ট্রেশন দিয়েই দায়সাড়া সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি, পল্লীসেবা, জন উন্নয়ন ও নিউ দৃষ্টি সমবায় সমিতির পরিচালক মো. বাহালুল বিশ্বাস বলেন, এমআরএ সনদের জন্য আবেদনের চিন্তা ভাবনা করেছি। করোনার কারণে এখনো আবেদন করা সম্ভব হয়নি। আমার এবং আমার বাবার কষ্টের টাকায় এই সমিতিগুলো পরিচালনা করি। আমরা অবৈধভাবে এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করি না। এ ব্যাপারে জেলা সমবায় কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, যদি এসব সমবায় সমিতি ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *