সরকারি খাস পুকুরে খামারের বর্জ্য

সারাবাংলা

শেখ মো. ইব্রাহীম, সরাইল থেকে:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কানিউচ্চ গ্রামে সরকারি খাস পুকুরে খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সাথে সাথে পুকুরপাড়ের ভূমিহীন বাসিন্দাদেরও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পুকুরের চারপাশ নোংরা বর্জ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। গরুর খামারের নোংরা বর্জ্য পাইপের সাহায্যে পুকুরে ছাড়া হচ্ছে। ওই পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন কয়েকশ লোক। হতদরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন দিনের প্রয়োজনীয় পানির যোগানের একমাত্র ব্যবস্থা এই পুকুর। বর্তমানে পুকুরপাড়ে বসবাস করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কানিউচ্চ ২৫ শতাংশ খাস পুকুর ইজারা নেয় একই এলাকার ছিদ্দিক মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি মাছ চাষের জন্য ইজারা নেয় বলে জানায় তারা। কিন্তু ছিদ্দিক মিয়া সেখানে মাছ চাষ না করে খামারের বর্জ্য পাইপের সাহায্যে পুকুরে ফেলছে। আর এই দুর্গন্ধযুক্ত ময়লায় চারপাশের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিন মাস আগে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয় ইউএনও বরাবর। কানিউচ্চ এলাকার সমুজ আলী, জিলন মিয়া ও হেলাল মিয়া বলেন, মাছ চাষের জন্য পুকুরটি ইজারা আনে ছিদ্দিক মিয়া। কিন্তু সেখানে মাছ চাষ না করে তার খামারের বর্জ্য পুকুরে ফেলে পানি নষ্ট করছে। অতিরিক্ত বর্জ্যরে চাপে পুকুরের পানি কাল রং ধারণ করে দূষিত হয়ে গেছে। চারিদিকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। আর উৎপাদন হচ্ছে লাখ লাখ মশা। পানি দূষণের ফলে মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। এ বিষয়ে ছিদ্দিক মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি পুকুর দুষিত করিনি, আমার খামারের মোটরের পানি পুকুরে পড়ে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সব মিথ্যা। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা বলেন, পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *