সরস্বতী প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পী

সারাবাংলা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : কয়েক দিন পর শুরু হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। সনাতন শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসের পঞ্চম তিথিতে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। সেই অনুযায়ী আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এই পূজা। তাই বিদ্যা দেবীকে আঁচড়ে সুন্দর রূপ দিতে দিনভর পরিশ্রম করছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের জফলারপাড় গ্রামের প্রতিমা শিল্পীরা। হিন্দুধর্ম মতে, বিদ্যার দেবী সরস্বতী। হিন্দু শিক্ষার্থীরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় প্রতিবছর পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজা করে থাকেন। এ পূজা উপলক্ষে হিন্দুধর্মবালম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী মন্দির। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারনে এমন কোন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জবলারপাড় গ্রামের প্রতিমা শিল্পী বিলাশ কুমার সিংহ জানান, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এছাড়াও তাদের তৈরি এ প্রতিমা জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রয় করা হয়। শীতকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাজের চাপে দম ফেলার সময় নেই তাদের। সরস্বতী দেবীর প্রতিটি প্রতিমা সর্ব নিম্ন ৩হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে প্রতিমা শিল্পী বিলাশ কুমার সিংহর মেয়ে অনুরাধা সিংহা জানান,বাবাকে সাহায্য করছি প্রতিমা তৈরীর কাজে। আর এটা আমাদের ঐতিহ্য। শিক্ষার্থী বর্ষা রায়, অনুরাধার কর দোলা ও অর্পিতা কর জানায়,‘করোনা ভাইরাসের কারনে আমাদের স্কুলে ছোট পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে,তেমন কোন উৎস থাকবে না। তারপরও ‘প্রতিবছরই দেবীর কাছে বিদ্যার জন্য প্রার্থনা করি। এবারও আমরা দেবীর কাছে বিদ্যা ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করবো। তারা আরো বলেন, সারাদেশের মানুষ খুব কষ্টে আছে করোনা নামক ভাইরাসের কারনে,আমরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করবো ।’ সরস্বতী প‚জাকে কেন্দ্র করে উজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। শেষ মুহুর্তে দিন-রাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। মাটির কাজ শেষে রং দেয়া তারপর প্রতিমায় পোশাক ও অলঙ্কার পড়িয়ে দৃষ্টি নন্দন করা হবে। এদিকে, সরস্বতী দেবীর প্রতিমা বেশি দামে কেনার অভিযোগ উঠলেও প্রতিমা শিল্পীদের দাবী, মূর্তি তৈরি উপকরণ বাঁশ, কাঠ, ছন ও রং এর দাম বেড়ে যাওয়া খরচ গত বছরের চেয়ে একটু বেড়েছ। কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর লাল সাহা জানান,‘উপজেলা সদর ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বাসা-বাড়িতে স্বরসতী পূজা উদযাপিত হবে। আমরা আশা করছি কোনো ধরণের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে জাঁকজমক পরিবেশে না হলেও সিমিত পরিসরে পূজা সম্পন্ন হবে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *