সহকারী প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা পাঁচ মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম রাফিন, বরগুনা থেকে:
বরগুনায় জেলা পরিষদ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে নলকূপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মোঃ মামুন মীর বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও অভিযোগটি আমলে নেয়নি জেলা পরিষদ। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল বরাবর ১৪/০৭/২০২০ইং তারিখ অভিযোগ প্রেরণ করলে বিভাগীয় কমিশনার ০৬ আগষ্ট ২০২০ তারিখে ২৮নং স্মারকে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত স্মারকের ভিত্তিতে গত ৩১ আগষ্ট ২০২০ তারিখে জেপবর/সংস্থাপন/৯৪-২০২০/৩৫০নং স্মারকে বাদীকে অবহিত পূর্বক গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেন। তদন্ত শেষ হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ০৫ মাস সময় অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদনটি বরগুনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুর রহমান অজ্ঞাত কারণে বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল বরাবর প্রেরণ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় জেলা পরিষদের খোঁজ নিয়ে জানা যায় জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল আলম এর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মচারীরা গভীর নলকূপ দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করছে। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামও সহকারী প্রকৌশলীর একজন দালাল। অভিযুক্ত জাহিদুল সহকারী প্রকৌশলী সকল কুকর্মের সহযোগী বিধায় তিনি তদন্তে সাক্ষ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জাহিদুলকে বাঁচাতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানে কালক্ষেপণ করছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ মামুন মীর বলেন ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ জেলা পরিষদের তদন্ত কার্যক্রমে স্ব-শরীরে আমি সহ সাক্ষীরা উপস্থিত হয়ে সাক্ষী প্রদান করি। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও জাহিদুলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় জাহিদুল আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিচ্ছে। জেলা পরিষদের সহকরী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল আলম সরকারি টেলিফোন দিয়ে আমার ছোট ভাইকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেন। আমি বাদী আমাকে না ডেকে বার বার আমার ছোট ভাইকে ডেকে বিষয়টি মিমাংশার চেষ্টা করছেন বলে আমি মনে করি। আমি নিরাপত্তাহীনায় ভূগিতেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগ তদন্তের আহব্বায়ক সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল আলম এর নিকট তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমাদের অফিসিয়াল বিষয় আপনাকে বলা যাবে না। অভিযোগকারীকে বার বার ডেকে মিমাংসার চাপ প্রয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন তদন্তের স্বার্থে আমাদের যখন ইচ্ছা তখন ডাকবো। তারা উপস্থিত না হলে সেই ভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দিব। অথচ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে তার ও তদন্ত কমিটির অপর সদস্যের একাাধিক স্বীকারোক্তির ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুর রহমানের সাথে সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে প্রধান করে ০৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা এখনও তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দেননি। উল্লেখ্য গত ০১ জুলাই বরগুনা জেলা পরিষদ কর্মচারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মাইদুল বরগুনা জেলা পরিষদ কার্যালয় কর্মরত থাকাকালীন ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে বরগুনা সদর উপজেলাধীন কড়ইতলা (মাইঠা) গ্রামের মোঃ নান্না মীরের পুত্র মোঃ মামুন মীরের নিকট হইতে নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অফিস খরচ বাবদ ২৭০০০/- টাকা নেয়। দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বিভিন্ন কৌশলে ঘুরাইয়া নলকূপ দিতে পারেননি। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘বরগুনা জেলা পরিষদ কর্মচারীর নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ ‘বরগুনা জেলা পরিষদ কর্মচারীর রমরমা নলকূপ বানিজ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে মোঃ মজিবর খানের নিকট হইতে নেওয়ার ৩০ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করে অভিযোগ তুলতে বাধ্য করেন উক্ত জাহিদুল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *