সহবতপুরে নৌকা বাইচ

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে
সাদা, নীল নাকি হলুদ কার আগে কে যাবে চলছে সেই প্রতিযোগিতা। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নে আয়োজিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে দেখা মিললো এমনি বড় বড় নৌকা প্রতিযোগিতার দৃশ্য। একদিকে বন্যা অন্যদিকে বিগত লকডাউনে বন্দি থেকে মানুষ যখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, তখন ঝিমিয়ে পড়া জনসাধারণদের নিছক বিনোদন দিতে আয়োজন করা হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠান।
প্রতি বছরের মতো মাইলজানী, চেচুয়াজানী, পাঁচইরতা, কাজীর পাচুরিয়া ও সারাংপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে সহবতপুর নোয়াই নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। দীর্ঘ সময় পর আয়োজিত এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠান দেখতে নদীর দুইপাশে ভিড় করেছিল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণসহ আশেপাশের উপজেলা থেকে আগত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। অন্যদিকে নেচে গিয়ে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে প্রাণপণ চেষ্টা প্রতিযোগীদের এবং প্রতি বছর এমন আয়োজন চান দর্শকরা। নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শক খন্দকার লিজা বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে এই নৌকা বাইচ উৎসব দেখতে এসেছি, অনেক আনন্দ উপভোগ করেছি। প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক এটাই আশাকরি। প্রতিযাগিতায় অংশগ্রহণকারী উপজেলার বারাপুষা এলাকা থেকে আগত খেলনা বাইচ নৌকার কর্ণধার দুলাল মিয়া বলেন, আমি এবার প্রথম নতুন নৌকা বানিয়েছি এবং বিভিন্ন বাইচ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ৪ বার প্রথম হয়েছি। এখানে প্রতিযোগিতার পরিবেশ অনেক ভালো। আশাকরি প্রতিবার এমন আয়োজন হবে এবং আমরা প্রতিবার অংশগ্রহণ করবো।
নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি সহবতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ মোল্লা জানায়, নৌকা বাইচ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বহন করে, তাই প্রতি বছর এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী তিনি। কোনো প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা যেনো না ঘটে সেই জন্যে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত ভলেন্টিয়ার সদস্যদের।
আবহমান গ্রাম বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসব ধরা হয় এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানকে। এইসব উৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক এটিই কাম্য।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *