সহবতপুর বাজার ইতিহাসের সাক্ষী শতবর্ষী বটগাছ

সারাবাংলা

ইউসুফ হোসেন, নাগরপুর থেকে
গাছের আবার বয়স। অনেকেই হয়তো হাসি-ঠাট্টা করে বলবেন। তবুও কৌতুহলী জনসাধারণ জানতে চায় এবং বয়স আবিষ্কার করে ফেলে। শতবর্ষী এক জোড়া বটগাছের সন্ধান পাবেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়ন সদর বাজারে। যা নিজ ছায়াতলে পুরো বাজার বেষ্টন করে আছে শতবর্ষ বয়সী দুটি বটগাছ। যা কিনা সহবতপুর ঐতিহাসিক বাজারের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দিব্বি দাঁড়িয়ে আছে। বটগাছ দুটি প্রায় পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করে তার আপন ছায়ায় ঢেকে রেখেছে। স্থানীয় বয়জ্যেষ্ঠ পরিমল চন্দ্র সাহা বলছেন, বাজার ঘেরা দুটি বটগাছের বয়স ১০০ বছরের বেশি হবে। বট গাছ কেন্দ্রীক বাজার এখন আরও বেশি জমে উঠেছে। প্রাচীনতম বটবৃক্ষ আর পাকুর গাছের মিলন যেন শত শত বছরের জীবন্ত সাক্ষী। কথিত আছে, বটবৃক্ষের নিচে বসে শীতল বাতাস গায়ে লাগালে নাকি মানুষও শতবর্ষী হয়। বটগাছের নিচে গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষ শীতল ছায়ার আশায় জড়ো হয় এটি আগে থেকেই প্রচলিত। একটি বট গাছের জীবদ্দশায় কত রাজা আর তার রাজ্যের ইতিহাস গাঁথা রয়েছে এর কোনো ইয়াত্তা নেই।
সরেজমিন সহবতপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব এবং উত্তর পাশে নিজের শাখা-প্রশাখা নিয়ে সুবিস্তীর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে দুটি বটগাছ। যদিও পুরো এলাকায় মোট ৪টি বটগাছ বিদ্যমান। বটগাছ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ যেমন আছে, তেমনি আছে বটগাছ নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা। ছোট ছোট চায়ের দোকান দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো বটগাছের মাটি সংশ্লিষ্ট অংশকে। এ বিষয়ে সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, বহু আগে এই বটগাছ কেন্দ্র করে দুধের বাজার বসতো। পর্যায়ক্রমে এখানে বড় প্রধান বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বাজারে ২টি শতবর্ষী বট গাছ আছে এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিবছর করা হয়। বটগাছের উপকারীতা ব্যাপক এবং এইসব বটগাছ সংরক্ষণ আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। একই প্রসঙ্গে সহবতপুর কাজী মোহাম্মদ মোকাদ্দাস আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানায়, সহবতপুর বাজারে বট গাছ অনেক পুরোনো এবং এই বট গাছ অনেক উপকার করে আমাদের। আমরা প্রায়শই বট গাছের নিচে বিশ্রাম করে থাকি। এই বটগাছ এখানে নিজস্ব ইতিহাস বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি রক্ষা করতে আমাদের সবার চেষ্টা প্রয়োজন। বটগাছ দুটি সম্পর্কে সহবতপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জিকরুল হাসান পিয়াস বলেন, আমাদের বাজারে বট গাছের ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রধান বাজারকে বেষ্টিত করে আছে এই গাছগুলো। মধ্যে মধ্যেই ডাল-পালা ছাটাই কাজ করা হয়। এখানে বট গাছ ঘিরে চা দোকান স্থাপন করায় কিছুটা ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে এবং গাছ হেলে পড়ার আশংকা রয়েছে। বট গাছের সৌন্দর্য রক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই করি, তবে প্রশাসনের কাছে আবেদন এই ইতিহাস মিশ্রিত গাছ সংরক্ষণ করতে যেনো বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নাগরপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান (ফরেস্টার) বলেন, বটগাছ অনেক উপকারী একটি গাছ। এর রক্ষণাবেক্ষণ অনেক প্রয়োজন। উপজেলা অফিস থেকে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় আমরা এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে পারছি না। ভবিষ্যৎতে বরাদ্দ পেলে বটগাছ রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এদিকে আনুমানিক শতবর্ষ অতিক্রমের ধারণা পোষণ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারাণ শাহ জোতদার নামের কেউ একজন এখানে এই বটগাছ রোপণ করেন। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের পরিক্রমায় এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়। আশ্চর্যের বিষয়, ঝুড়িমূল থেকে সৃষ্ট প্রতিটি বটগাছ তার মূল গাছের সঙ্গে সন্তানের মতো জড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের দাবী শুধু সহবতপুর বাজার নয়, এখানে শতবর্ষী এই বটগাছগুলো ঐতিহ্যের অংশ করতে এগিয়ে আসবে উপজেলা প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *