সাগরদাড়ির জগ্ননাথ নন্দীর পান চাষে ভাগ্য বদল

সারাবাংলা

শেখ শাহীন, কেশবপুর থেকে:
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় জগ্ননাথ নন্দীর পান চাষ করে ভাগ্য বদল হয়েছে। এ পান চাষ করে যা উপার্জন হয়, তাই দিয়ে চলে জগ্ননাথ নন্দীর সংসার। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া তার একমাত্র ছেলে পড়াশুনার ফাঁকে তার বাবার সঙ্গে পানের বরজে কাজ করে তাকে সহযোগীতা করে। জগন্নাথ নন্দী আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাড়ি দক্ষিণ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি কেশবপুর যশোর থেকে ২০১৪ সালে ঋণ গ্রহণ করে ১৫ শতক জমি নিয়ে প্রথম তিনি পান চাষ শুরু করেন। সেই ঋণের টাকা নিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন পান চাষ। আর তার এ কাজে সহযোগীতা করেন তার স্ত্রী ও ছেলে। তিনি গত সাত বছর যাবৎ এই প্রকল্পের সদস্য আছেন। সর্বশেষ ঋণ গ্রহণ করেন ৪০ হাজার হাজার টাকা। বর্তমানে ৩ বিঘা জমি হারি নিয়ে পান চাষ করছেন। প্রতি বছর হারি দিতে হয় ১ লাখ টাকা। পানের বরজই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এর থেকে যে অর্থ উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে তাদের।
পানের বরজ পান চাষ করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। নিজের ক্ষেত থেকে পান তুলে সাগরদাড়ি ও কেশবপুরের হাটে বিক্রি করেন। জগ্ননাথ নন্দী বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে পানের বরজ শুরু করি। পান বরজ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমাদের সংসার চলে।
সাগরদাড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ সহকারী রেজওয়ান হোসেন বলেন, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে সাগরদাড়িতে প্রায় ১২৮০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন আয়বর্ধক খামার করেছেন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সুভংকর বিশ্বাস বলেন, জগ্ননাথ নন্দীর মত অসংখ্য মানুষের ভাগ্যবদল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের ন্যায় কেশবপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন প্রসূত আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ১১টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভাসহ গাভী পালন, মুরগী-হাঁস পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, মাছ চাষ নার্সারী, সবজি চাষ, পান চাষ হস্তশিল্প সহ ১০ হাজার ৩৪৫টি আয়বর্ধক মূলক প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা ঋণ বিনিয়োগ চলমান আছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *