সাটুরিয়ায় মামা-ভাগ্নের হাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নে নারী ওষুধ বিক্রেতাকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে সাইবার ট্রাইবুনাল (বাংলাদেশ), ঢাকা আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। সেই সুবাদে উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ হারুন ওই নারীর ওষুধের ফার্মেসীতে সময়ে অসময়ে আসা যাওয়া করতো। মাঝে মধ্যেই ইশারা ইঙ্গিত করে অশ্লীল কথা বার্তা বলতো এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক পর্যায়ে বাদীনিকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণকালে চেয়ারম্যানের ভাগ্নে মামলার ১নং আসামি আসিফুর রহমান ওরফে রাশেদুল ইসলাম তার মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে এবং ওই গৃহবধূর স্বামীকে দেখাবে বলে ভয় দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অসংখ্যবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ ও আসিফুর রহমান সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। চেয়ারম্যানের ভাগ্নে আসিফুুর রহমান মামা হারুনার রশিদকে না জানিয়ে গোপনে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের ভিডিও ও নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নগদ হাতিয়ে নেয়।
মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হারুনের ভাগ্নে গৃহবধূর বাড়িতে ও কক্সবাজারে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আসামি আসিফুর রহমান কৌশলে বাদিনীর ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ও নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আবারো ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। এরপর আসিফুর রহমান উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সাইদ, ইউনিয়ন প্রচার লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম শফিক ও রিপনের মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ও নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়। পরে বাদীনি এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা করতে গেলে আসামিরা ওই গৃহবধুকে হুমকি ধামকি দিয়ে জানে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হারুন প্রভাব খাটিয়ে সালিশের মাধ্যমে ওই গৃহবধূকে এলাকা ছাড়া করার পায়তারা করে। পরে বাদীনি উপায়ান্তর না পেয়ে জীবন বাঁচাতে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হারুন নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, আমি ধর্ষণ করিনি। আমার ভাগ্নে আসিফুর রহমান ধর্ষণ করেছে। মেয়েটি খারাপ বলে আমি সালিশের মাধ্যমে তাকে এলাকা ছাড়া করেছি। মামলার বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *