সাদা কাগজে লিখে বাল্য বিয়ে

সারাবাংলা

মনিরুজ্জামান হিরোন, বাউফল থেকে
অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ের হাতে বানানো ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বাল্য বিয়ে পড়ান কাজী। তবে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধীকরণ) আইনানুযায়ী রেজিস্ট্রার খাতায় তালিকাভুক্ত করা হয় না। সাদা কাগজে লিখেই বিয়ে কার্য সম্পন্ন করেন কাজী। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নে। এমন কান্ড করেন দাশপাড়া ইউনিয়নের কাজী মো. ফারুক হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের স্কুল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর সাথে দাশপাড়া ইউনিয়নের খেজুর বাড়িয়া গ্রামের মো. ছালাম হোসেনের ছেলে মো. জিয়ার বিয়ে কথা-বার্তা হয়। মেয়ের বয়স ১৫ আর ছেলে বয়স ১৮। দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ছেলে মেয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে দিতে বিপত্তিতে পরেন উভয় পক্ষ। পরে কাজী মো. ফারুক হোসেনের পরামর্শ মতে কম্পিউটার দিয়ে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র বানানো হয়। সেই জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দিয়ে বিয়ের আয়োজন করেন কাজী। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রারভুক্ত করা হয়নি। সাদাকাগজে লিখেই বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি। বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য কাজীকে দিয়ে হয় অতিরিক্ত টাকা। সরেজমিনে মিলে সত্যতা। দেখা যায় কাজী ফারুক হোসেন দাশপাড়া মুসলিম পাড়া এলাকায় তার বাসভবনে বসে বিয়ে পড়ানোর কাজ করছেন। মেয়ে-ছেলে ও স্বাক্ষীদের নাম লিখে রাখছেন সাদা কাগজে। গণমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে মুহুর্তেই পালিয়ে যায় ছেলে-মেয়ে পক্ষ। উপজেলার কয়েকজন কাজী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বয়স সংক্রান্ত জামেলা থাকলে আমরা বিয়ে পড়াই না। কিন্তু কাজী ফারুক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাল্য বিয়ে পড়ান। তবে বিয়ে পড়ানোর কথা অস্বীকার করে কাজী ফারুক হোসেন বলেন, ছেলে মেয়ের নাম-ঠিকানা খাতায় লিখে রাখছি মাত্র। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আল-আমিন বলেন, খোঁজ নিয়ে ঐ কাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *