সাভারে খুন হওয়া রাবির সাবেক শিক্ষার্থীর লাশ নিয়ে মানববন্ধন

সারাবাংলা

রাজশাহী ব্যুরো : ঢাকার সাভারে খুন হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুরের লাশ নিয়ে জানাজার আগ মুহূর্তে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। মানববন্ধন থেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মুস্তাফিজুরের খুনের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা। যাতে শাস্তির ভয়াবহতা দেখে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন অপরাধ করতে না পারে এবং অকালে কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।
জানা গেছে, রোববার সকাল থেকেই রাবির সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুরের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওয়াপাড়ায় অবস্থিত তার বাড়িতে জানাজার জন্য লোকজন জড়ো হতে থাকে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশেপাশের গ্রামের লোকজন ও তার সহপাঠিসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ জানাজাস্থলে জড়ো হয়। এরপর তারা মুস্তাফিজুরের লাশ নিয়ে মানববন্ধন করে।
জানাজার আগ মুহূর্তে বক্তব্য রাখেন, নিহত মুস্তাফিজুরের বাবাসহ অন্যান্যরা। তিনি কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেই সঙ্গে তার ছেলের খুনিদের কঠোর দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে, একটি তাজা প্রাণ ছিনতাইকারীদের হাতে অকালে ঝরে যাওয়ায় শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন তার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। আর তার স্ত্রী মা-বাবা শোকে কাতর হয়ে গেছেন। নিহত মুস্তাফিজুরের এক বছরে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্ত্রীও শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে রাজশাহী থেকে সাভারে নিজ কর্মস্থলে ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে তাকে নৃশংসভাবে খুন করে কাছে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে পথচারীরা লাশ পড়ে থাকতে দেখে সাভার মডেল থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিহত মুস্তাফিজুরের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে স্বজনরা। মোস্তাফিজুর কে খুনের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। সাারহাফিজুর ছিনতাইকারীদের দেখে দৌড়ে পালাতে গিয়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ধরে খুন করে কাছে থাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। এর আগে শনিবার বিকেলে খুনিদের কঠোর শাস্তি ও তিন দফা দাবিতে রাবি গেটে মানববন্ধন করে তার সহপাঠি ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে তারা, দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি ও নিহত মুস্তাফিজের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *