সিলেট আওয়ামী লীগে কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

সাক্ষাৎকার

সাদিক চৌধুরী, সিলেট ব্যুরো
প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়তেই অসন্তোষের আগুনে জ্বলছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে। প্রস্তাবিত কমিটিতে নিজের পছন্দের লোকদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক কমিটির অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়নেরও অভিযোগ তুলেছেন দলের একাংশের নেতারা। এমন অভিযোগে কেন্দ্রে বিকল্প কমিটি জমা দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। আর জেলা কমিটিতে ত্যাগীদের স্থান দিতে নগরীতে মিছিল করেছেন বঞ্চিতরা। মহানগরের নেতারা দাবি করেন পদবন্টনে সাবেক পদবী নয় পদপ্রত্যাশীদের কর্ম বিবেচনা করেছেন। স্বচ্ছ ইমেজধারীদের দিয়েই কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। আর জেলার নেতারা বলছেন সাবেক কমিটির কাউকেউ বাদ দেওয়া হয়নি। নানা কারণে কার্যনির্বাহী কমিটিতে যাদের জায়গা হয়নি তাদের উপদেষ্টা কমিটি বা জাতীয় পরিষদে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়। কমিটি জমা দেওয়ার পরই দলের মধ্যে দেখা দেয় অসন্তোষ। মহানগরের প্রস্তাবিত কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বাদ পড়েন সাবেক কমিটির অন্তত এক ডজন নেতা। মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটিতে ঠাঁই হয়নি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করে আসা অনেক নেতার। সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করে আসা সাবেক কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সিটি করপোরেশনের চারবারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। কিন্তু প্রস্তাবিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম সম্পাদক না রেখে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক। আর কমিটিতে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে ওয়ান ইলেভেনের সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রে দায়িত্বপালনকারী কাউন্সিলর আজম খানকে। আরেক যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন যুবলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করা ও গত সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেনের নাম প্রস্তাবকারী আবদুর রহমান জামিলকে। কমিটির সহ সভাপতির ক্রমবিন্যাস নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। এসব অসন্তোষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রস্তাবিত কমিটির তৃতীয় সহ সভাপতি ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ারের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা মিলে কেন্দ্রের কাছে বিকল্প একটি কমিটি জমা দিয়েছেন। কমিটি থেকে বাদপড়া প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, আগের কমিটিতে কে কি ছিলেন সেটা বড় নয়, পদ পেয়ে কে কী করেছেন আমরা সেটা মূল্যায়ন করেছি। যারা দল ও মানুষের জন্য ভাল কাজ করেছেন তাদেরকে প্রস্তাবিত কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা রাজনীতিতে স্বচ্ছ ছিলেন না কেন্দ্র ও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্দেশনায় তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তুলনামুলক অসন্তোষ কম। তবে পদপ্রত্যাশী ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার দাবিতে নগরীতে মিছিল হয়েছে। বঞ্চিত আওয়ামী লীগের ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের কোন নেতাকে দেখা না গেলেও ছিলেন অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন। মিছিল থেকে মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাহরীয়ার কবীর সেলিমসহ বাদপড়া ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে শাহরীয়ার কবীর সেলিম বলেন, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ করেও আওয়ামী লীগে ঠাঁই হয়নি। আওয়ামী লীগের গত দুই কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। বাধ্য হয়ে এখন শ্রমিকলীগের রাজনীতি করতে হচ্ছে। এবারও ষড়যন্ত্র করে আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমার মতো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জায়গা না হলেও কমিটিতে সুবিধাবাদীরা ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন। তবে কমিটিতে অসন্তোষ নেই দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, সাবেক কমিটির কোন নেতাকেই প্রস্তাবিত কমিটিতে বাদ দেওয়া হয়নি। কার্যনির্বাহী ও উপদেষ্টা কমিটিতে তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এমনকি যারা দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ও বিদেশে অবস্থান করছেন তাদেরও সম্মান দিয়ে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম বিবেচনায় গত কমিটির কিছু নেতাকে পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *