সীতকুণ্ডে অবহেলিত বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ

সারাবাংলা

ইলিয়াছ ভূঁইয়া, সীতাকুণ্ড থেকে
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মোট কতগুলি স্থান বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত কোনো তালিকা পাওয়া যায় না, তবে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এদেশে প্রায় ৯৪২টি বধ্যভূমি শনাক্ত করেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ১১৬টি স্থানকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তেমনি একটি চট্টগ্রামের সীতকুণ্ডের সলিমপুরে কালুশাহ নগরের অবস্থিত বধ্যভূমি । স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন অযত্ন ,অবহেলায় পড়ে আছে এই বধ্যভূমি। আশেপাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা । বধ্যভূমির জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অবশেষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ইতিহাসের দায় থেকেই দখল হয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের এই বধ্যভূমি সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন। সীতকুণ্ডের সলিমপুরের কালুশাহ নগরে ১৯৭১ সালের সম্মুখযুদ্ধে পাক বাহিনীর হাতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের সমাহিত বধ্যভূমিতে স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে এটি সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদ পিইসি প্রকল্প হিসাবে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বধ্যভূমির আশেপাশে কিছু ব্যবসায়ী দখল করে রাখায় প্রকল্প কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন ও জেলা পরিষদ সদস্য আ ম ম দিলসাদ বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ, ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহদাত হোসেন, সাইদুর রহমান মারুফ ও বিভিন্ন স্থরের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বধ্যভূমি পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন আগামী ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের বধ্যভূমি সন্নিহিত স্থান থেকে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন ।
এসময় সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়ায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও সদস্য আ ম ম দিলসাদকে ধন্যবাদ জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *