সুবিচার প্রাপ্তির স্থল

সারাবাংলা

খন্দকার আনিসুর রহমান, সাতক্ষীরা থেকে:
গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় যে আদালত গঠিত হয় সে আদালত হলো গ্রাম আদালত। সহজ কথায় গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে ২৫০০০ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যে আদালত বসে সে আদালতেই হলো গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালত গ্রামাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত অনুগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এখতিয়ার সম্পূর্ণ এলাকার জনগণ ফৌজদারী হলে ২ টাকা এবং দেওয়ানী হলে ৪ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে এই মামলা দায়ের করতে পারে। গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পূর্ণ মামলা অন্য কোনো আদালত গ্রহণ করতে পারে না। গ্রাম আদালতে মামলা করলে কোনো আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না। যার কারণে মামলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য বিচারকের উপস্থিতিতে এই আদালত বসে। যে আদালতে বিচারক সংখ্যা হলো ৫ জন। দুইজন মনোনীত সদস্য থাকবেন আবেদনকারীর পক্ষে এবং ২ জন সদস্য হবেন প্রতিবাদীর পক্ষে। যার মধ্যে একজনকে অবশ্যই হতে হবে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য। স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গন্য মান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই বিচার অনুষ্ঠিত হয় বলে এখানে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
সাতক্ষীরায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রাম আদালত আইন ও নারীবান্ধব গ্রাম আদালত সম্পর্কে অবহিতকরণ ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় গতকাল বুধবার ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. তানজিলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। প্রকল্পের ফ্যাসিলিটিটর এসএম রাজু জবেদের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার মুরশিদা পারভীন, আশাশুনির কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দিপঙ্কর সরকার, কালিগঞ্জের মৌতলা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মাহফুজা খানম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ কচি, হাবিবুর রহমান, মোজাফ্ফর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সেলিম রেজা মুকুল, রবিউল ইসলাম, ফারুক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
সভায় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, সমাজে ন্যায় বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালত মাইলফলক। তুচ্ছ ঘটনায় অনেক সময় বিচারপ্রার্থীরা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হন। এই হয়রানী থেকে মুক্তি দিতে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলার সংখ্যা বেশি কিন্তু বিচারকের সংখ্যা কম। ফলে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে মানুষ অনেক সময় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই মানুষ যাতে হয়রানী না হয় সেজন্য গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অল্প খরচে স্বল্প সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করছে গ্রাম আদালত। তিনি গ্রাম আদালত সম্পর্কে বেশি বেশি প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৩ মাসে সাতক্ষীরার তালা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতে ১১৪৭৭ টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১১৩০১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। ৯৭২৭ মামলার রায় বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ১৭৬টি মামলা চলমান আছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *