সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার: স্পিকার

জাতীয়

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু অনগ্রসর শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে সুযোগ দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জাতীয় শিশু নীতি ২০১১, শিশু শ্রমনীতি ২০১০, শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশে সমন্বিত নীতি ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এগিয়ে নিয়ে তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগটি সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাবে।

বুধবার (৩ নভেম্বর) ‘ইউসেপ দিবস ২০২১’ এবং ইউসেপ প্রতিষ্ঠাতা লিন্ডসে অ্যালান চেইনীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ইউসেপ বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন স্পিকার।

স্পিকার বলেন, মানবসেবায় নিবেদিতভাবে নিয়োজিত থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লিন্ডসে অ্যালান চেইনী ও তার প্রতিষ্ঠান ইউসেপ। নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার সমগ্র জীবন বাংলাদেশের মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বৃত্তিমূলক শিক্ষার কার্যক্রম তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন। দ্রুত উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত ইউসেপ কাজ করে চলেছে। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ইউসেপ।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭২ সালে লিন্ডসে অ্যালান চেইনী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইউসেপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদার সহযোগিতা তিনি লাভ করেছিলেন এবং ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকার সেগুনবাগিচায় ইউসেপের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কম মূল্যে অফিস বরাদ্দ দিয়েছিলেন। যে পথশিশুরা সেদিন এ সহযোগিতা পেয়েছিল, তারা নিজ প্রতিভার বিকাশের মাধ্যমে আজ সমাজ ও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।

এসময় ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন পারভীন মাহমুদ এফসিএর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানে এলাহী।

এছাড়াও ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুল করিম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। ইউসেপ নেপালের সাধারণ সম্পাদক অজয় সিং কারকি ও ইউসেপ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারপারসন উজমা চৌধুরী সিপিএ অনুষ্ঠানে তার মূল্যবান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ইউসেপ বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারপারসন এবং ভাইস চেয়ারপারসনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় অধ্যাপক মো. হাফিজুল ইসলামকে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *