সূর্যমুখীতে হাসছে সোনারগাঁও

সারাবাংলা

ফারুকুল ইসলাম, সোনারগাঁও থেকে:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে কৃষকরা। উপজেলার ১০ ইউনিয়ন একটি পৌরসভায় প্রতিটি গ্রামের প্রায় ৯০/৯৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী জমিতে এই প্রথম সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ফুল ধরতে শুরু করেছে সূর্যমুখী বাগানে। বিভিন্ন ইউনিয়নের দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমূখীর সমাহারে নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এ যেন ফসলি জমি নয়, দৃষ্টিনন্দন এক বাগান। সম্প্রতি খামারে চাষ করা সূর্যমুখী ফুলের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে গত কয়েকদিন থেকে সূর্যমুখী ফুলের চাষ বাগানে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। সূর্যমুখীর বীজ বোনার পর ৯০ থেকে ১০৫ দিনে ফসল তোলা যায় বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরিচর্যার উপকরণ দেওয়া হয়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউপিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করছে কৃষকরা। উপজেলার বৈদ্যের বাজার দামোদরদী রাস্তার পাশে খামারে সূর্যমুখী চাষ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফুলেই পাওয়া যায় বীজ। আর সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের মধ্যে ২০/৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও রিক্সা ও মোটরসাইকেলে করে ছুটে আসছে কেউবা সেলফি, কেউবা স্বজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের মানুষ। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে সূর্যমুখীর চাষ। জানতে চাইলে উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের দামোদরদী গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী কৃষাণি মাকসুদা বেগম বলেন, ভোজ্য তেলসহ সব কিছুতেই ভেজাল। তাই বাচ্চাদের মুখে ফ্রেশ কিছু দিতে ও সঠিক পুষ্টির জন্যই প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক ভাবে অল্প জমিতে সুর্যমূখির চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর ১৬ শতক জমিতে চাষ করেছি, আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করবো। এ বছর উপজেলা কৃষি পরামর্শে প্রথমবারের সূর্যমূখীর চাষ করেছি। কৃষি অফিস বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালো মনে হচ্ছে। ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার বলেন, এ বছরই প্রথম উপজেলায় প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে কৃষক একযোগে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখি চাষ শুরু করেছেন। এর আগে উপজেলার সূর্যমুখির চাষ হয়ে থাকলেও তা বিচ্ছিন্নভাবে কেউ করছে। এ বছর উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়নে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ তেলবীজ পাওয়া যায়। এক মণ বীজ থেকে ১৮ কেজি তেল হয়। প্রতি কেজি তেল বাজারে খুচরা ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তিনি জানান, তেল ছাড়াও এ থেকে খৈল হয় যা দিয়ে মাছের খাবার বানানো হয়। আর গাছ ব্যবহৃত হয় জ্বালানি হিসেবে। সূর্যমুখি চাষের পরও কৃষক যথাসময়ে আউশ ধান চাষ করতে পারবেন।স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পদক্ষেপ হিসেবে সরকার সূর্যমুখির চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *