সৈয়দপুরে অনিয়মের অভিযোগে ১০ টাকা কেজি দরের ডিলারশিপ বাতিল

সারাবাংলা

দুলাল সরকার, সৈয়দপুর থেকে : নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিতে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। এমন ঘটনায় উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বুড়ির বাজার কেন্দ্রের ডিলার আবু সাঈদ চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরীর ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিলারশীপের জন্য জামানতের ২০ হাজার টাকা বাতিল করা হয়। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত ন্তুয়া হয়।
সূত্রমতে, উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বুড়ির বাজার কেন্দ্রের আওতায় ইউনিয়নের ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের ৪৬৮ জন ভোক্তাকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় বছরে ৫ বার ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। যার প্রতি কেজি চালের মূল্য মাত্র ১০ টাকা।
২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে এ পর্যন্ত ওই কেন্দ্রের আওতায় ১৯ বার চাল বিতরন করা হয়েছে। কিন্তু ডিলার আবু সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ভোক্তাদের ৩০ কেজির সরকার কর্তৃক নির্ধারিত টাকা গ্রহণ করে ২৫ কেজি করে চাল বিতরন করেন। এমন অনিয়মের শিকার ৬০ জন ভোক্তা সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন।
এদিকে গত ১২ অক্টোবর চাল বিতরণের সময় ডিলার আবু সাঈদ চৌধুরী ওজনে চাল কম দেয়ার সময় ভোক্তারা মোবাইল ফোনে বিষয়টি খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শককে অবহিত করেন। ভোক্তাদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক নুরে রাহাদ রিমন ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে জনসম্মুখে ৩৬২ ও ৩৬৩ নং কার্ডধারী ভোক্তার চাল ওজন করে ২৫ কেজি চাল পান।
অপরদিকে ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে কার্ড আত্মসাতের অভিযোগ মিলেছে। গত ২০ অক্টোবর ৫৮, ২৯৮, ৩২৮, ৩৪৭ ও ৩৫৪ নং কার্ডধারী যথাক্রমে জাহেদুল, আব্দুল খালেক, মজিদুল, অশ্বিনী চন্দ্র শীল ও রনজিৎ চন্দ্র শীল উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ভোক্তারা বিগত ১৯ বারের মধ্যে মাত্র তিনবার চাল উত্তোলন করেছে। পরবতীতে ওই ইউপি সদস্য অফিসে কার্ডটির প্রয়োজন, নাম পরিবর্তন করার কথা বলে কৌশলে কার্ডগুলো হাতিয়ে নেয়। যা এ পর্যন্ত কার্ডগুলি ভোক্তারা ফেরত পাননি। এছাড়া ১৮ জন ভোক্তার নামের বিপরীতে মোবাইল নম্বর ইউপি সদস্যের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করায় বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে।
মুঠো ফোনে এ প্রসঙ্গে কথা হয় ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনের সাথে। তিনি জানান, সামনে নির্বাচন আসছে। একটি মহল আমার সুনামকে ক্ষুন্ন করার জন্য কার্ডধারীদের দিয়ে কার্ড নেয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। আমার পরিবারের কোন সদস্যকে কার্ড দেয়া হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিতর্কিত করার জন্য ডিলার আমার মোবাইল নম্বরগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ডিলার আবু সাঈদ চৌধুরীর ০১৭১৯৫১৫৭৬৬ মোবাইল ফোন নম্বরে তিন দফায় কল দেয়া হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ না করায় কোন মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে কথা হয় উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ-এর সাথে। তিনি জানান, অনিয়মের দায়ে ডিলারশীপ বাতিল হওয়া ওই ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারী চাল আত্মসাতের কারনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *