সোনারগাঁওয়ে মিলের বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস নেওয়াই দুঃসাধ্য

সারাবাংলা

ফারুকুল ইসলাম, সোনারগাঁও থেকে:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের এইচ কে জি স্টিল মিলের বিষাক্ত নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ওই এলাকার বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠেছে। পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বায়ু দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনসমাজ, গাছ-গাছালী ও ফলমূল। মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে শিশু ও বৃদ্ধরা। একইসঙ্গে শ্বাসকষ্ট জনিত বিভিন্ন রোগ, এতে ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ শ্বাস -প্রশ্বাস নেয়াই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। মিলের কালো ধোঁয়ায় দিনের আলো ঢাকা পড়ে যায়। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মিল বন্ধের দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা পরিবেশ অধিদফতরে, স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান, প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ এমনকি আন্দোলন সংগ্রাম করেও কোনো ফল পায়নি। সরেজমিন দেখা যায়, এইচ কে জি স্টিল মিল থেকে প্রতিনিয়ত প্রচুর পরিমাণে কালো বিশাক্ত ধোঁয়ায় নির্গত হয়। এসব এইচ কে জি স্টিল মেইলের পাশে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক ভবন, স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মসজিদসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা কালো ধোঁয়ার ভয়ে সারাক্ষণ দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখে। শুধু আবাসিক এলাকায় নয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কালো ধোঁয়ার ভেতর দিয়েই চলাচল করতে হয়। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, নয়াগাঁও, মনাইকান্দি, জৈনপুর, চেঙ্গাকান্দি, নাগেরগাঁও ও মৃধাকান্দি গ্রামের ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বায়ু দূষণ বন্ধের দাবিতে বহুবার মানববন্ধন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার চাইলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি,রহস্যময় কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নিরব ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
স্টিল মিলের ব্যবস্থাপক কল্লোল আহম্মেদ মুঠোফোনে জানতে চাইলে একাধিক বার দিলে ফোন রিসিভ করেননি। পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান (মাসুম) ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, ইউনিয়নের কিছু অংশ শিল্প-কারখানা রয়েছে। এসব শিল্প-কারখানায় বিধি মোতাবেক পরিচালনা না করায় ইউনিয়নের বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *