সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

সারাবাংলা

ফারুকুল ইসলাম, সোনারগাঁও থেকে

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন এর মৃত্যুর পর উপজেলার সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কে হবেন উপজেলা উপ নির্বাচনে নৌকার কান্ডারী? তবে করোনাকালীন সময় সম্ভাব্য উপজেলা উপ-নির্বাচন চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই বললে চলে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ার জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে যার যার পছন্দের নেতার নাম ও ছবি পদ-পদবি দিয়ে সমর্থন দিচ্ছেন কিংবা নাম উল্লেখ করছে কর্মীরা। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো এ শূন্য আসনে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি। এ অবস্থায় শূন্য মাঠে গোল দিতে মরিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। কৌশলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের বলয়ের কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন আগাম প্রচারণা। ভোটারদের মতামত জরিপে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল।
সজ্জন ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা। গত ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখে উপজেলা নির্বাচনে মোশারফ হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। গত ২২ জুলাই রাত ৯টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার গ্রীনলাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়। এরপরই শুরু হয় সম্ভাব্য প্রার্থী ও উপ-নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা। আগামী উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের কে হচ্ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বা কারা কারা নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারণা। ইতোমধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছেÑ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাড শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহাফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মনির হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এইচ এম জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এরফান হোসেন দীপ, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ও কাঁচপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর।
কেউ কেউ বিভিন্ন মতবিনিময় সভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রার্থী হওয়ার ইশারা ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন। যারা পদ-পদবীধারী তাদের অনেকেই পদ হারানোর ভয়ে প্রকাশ্য প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও চেয়ে আছে উপর মহলের দিকে। অনেকে বলছে, দলীয় প্রতীক পেলে নির্বাচন করবো। কেউ কেউ অনঢ় রয়েছে নির্বাচনের জন্য। সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, আল্লাহ চাইলে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হবো। ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি কিছুই পেলাম না। এবার উপজেলা নির্বাচনে আমি ছাড়াও অন্য কোনো প্রার্থীর আছে কিনা জানি না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *