স্কুলছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন

সারাবাংলা

এইচ এম কাওসার মাদবর, আমতলী থেকে:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নাজমুল নামের এক ষষ্ঠ শ্রেনির স্কুলছাত্রকে সুলতান মাতুব্বর মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্রকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনার তালতলী উপজেলার উত্তর ঝাড়াখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবুনিয়া গ্রামের ছালাম তালুকদার ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করেন এবং স্ত্রী নাজমা বেগম জর্দান থাকেন। ওই দম্পতির একমাত্র ছেলে নাজমুল উত্তর ঝাড়াখালী গ্রামের নানা নুরু মাতুব্বরের বাড়িতে থেকে আলীর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেনিতে লেখাপড়া করে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নামজুল নানা বাড়ীর পাশে কবির মিয়ার বল্লা জাল সেলাই করতে ছিল। এসময় একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র প্রতিবেশী তামিম এসে নাজমুলকে পেছন দিকে থেকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। নাজমুল তা প্রতিরোধ করে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে মারামারি হয়। এঘটনার ঘণ্টা খানেক পর তামিমের দাদা সুলতান মাতুব্বর এসে ওই বাড়ি থেকে নাজমুলকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রঁশি দিয়ে নিম গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে যখম করে। সংবাদ পেয়ে নাজমুলের মামী শাহিনুর ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুলকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। এসময় সুলতান মাতুব্বর তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাতের একটি আঙ্গুল কেটে দেয়। সুলতার মাতুব্বরের মারধরে নামজুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত যখম হয়। পরে স্বজনরা নামজুল ও শাহিনুরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এঘটনায় স্কুলছাত্র নাজমুলের ফুফু রোশনা আক্তার বাদী হয়ে সুলতানকে প্রধান অভিযুক্ত করে পাঁচজনের নামে তালতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
আহত নাজমুল কান্নাজনিত কণ্ঠে জানান, আমি কবির মিয়ার বল্লা জাল সেলাই করতে ছিলাম। এমন মুহূর্তে তামিম পেছন থেকে এসে আমাকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। পরে আমি তাকে প্রতিহত করে পাল্টা জবাব দেই। এঘটনার ঘণ্টাখানেক পরে তামিমের দাদা সুলতান মাতুব্বর এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করে। আমাকে রক্ষায় আমার মামি শাহিনুর বেগম এগিয়ে গেলে তিনি তাকেও কুপিয়ে আহত করেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই। নাজমুলের মামী শাহিনুর বলেন, নাজমুলকে রক্ষায় আমি এগিয়ে গেলে আমাকে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমার ডান হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়েছে। আহত নাজমুলের বাবা মো. ছালাম তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, আমার স্ত্রী জর্দান থাকে এবং আমি ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করি। এ সুবাদে আমার ছেলেকে নানা নুরু মাতুব্বরের বাড়িতে রেখে এসেছি। আমার ছেলেকে সুলতার মাতুব্বর অহেতুক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই। এ বিষয়ে সুলতান মাতুব্বর শিশু নাজমুলকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার নাতি তামিমের সঙ্গে নাজমুলের মারামারি হয়েছে। তা ছাড়িয়ে দিয়েছি মাত্র। তবে নাজমুলের শরীরের আঘাতের চিহৃ কিসের এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশু নাজমুলের বাম পায়ের রান ও পেছনে রক্তাক্ত জখমসহ সারা শরীরের এবং শাহিনুরের ডান হাতের আঙ্গুল কাটার চিহৃ রয়েছে। নাজমুল ও শাহিনুরকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তালতলী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *