স্কুলের আঙিনায় প্যাশন ফুল

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে
স্কুলের আঙিনায় ঢুকলেই মনকাড়া ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে। ঘ্রাণের উৎস মাচায় বেয়ে ওঠা আরোহী লতা। খাঁজকাটা পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে পৃথিবীর সুন্দরতম দৃষ্টিনন্দন প্যাশন ফুল ও মসৃণ সবুজ ফল। শখের বসে লাগানো ফলের স্বাদে মুগ্ধ স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী। প্যাশন শব্দটি বাংলা করলে দাঁড়ায় অনুরাগ। ফলটির এমন নামকরণই বলে দেয় এর কদর আছে বিশ্বজুড়ে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংঙ্গা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড হায়াৎখান চালা গ্রামে হাজী আব্দুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু গ্রীণ ক্যাম্পাসে। প্যাশন ফল একটি স্বল্প পরিচিত প্রবর্তনযোগ্য ফল। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে এই ফলের বেশ কিছু গাছ থাকলেও এখনো এদেশের মানুষের কাছে এটি অপরিচিত একটি ফল। এটিকে অনেকে ট্যাং ফলও বলে থাকে। খুব সুস্বাদু ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটির উৎপত্তিস্থান সুদূর ব্রাজিলে। হাওয়াই, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়ায় একে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ঝুমকোলতায় রচিত তোরণ বাগানের শোভায় যোগ করে বাড়তি মাত্রা। বিশেষত বর্ষায় বৃষ্টিভেজা নিবিড় সবুজ লতার পটভূমিতে গাঢ় বেগুনি-সাদা বিচিত্র গড়নের ফুলগুলোর দিকে তাকালে মুগ্ধতা দৃষ্টি ছুঁয়ে যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানান, ২০২০ সালের জুলাই মাসে বগুড়ার সাফওয়ান এগ্রো নার্সারী থেকে কলমের চারা এনে লাগিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের আঙিনায়। বিনা যত্নেই গাছটি বেড়ে উঠেছে। গাছে গাছে ফুলের সঙ্গে সঙ্গে ফল ধরছে বছরের মাথায়। তিনি আরো জানান, এ ফল পাকলে হলুদ রং ধারণ করে। ভেতরে অসংখ্য বীজ আবৃত করে থাকে জেলির মতো হলুদ মণ্ড। স্বাদ টক-মিষ্টি। এই ফলের শরবত খেতে দারুণ সুস্বাদু বলে জানালেন তিনি। বিশেষ করে গরমে ক্লান্তি দূর করে দ্রুত। তা ছাড়া প্রচুর ভিটামিন থাকে বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হলেও স্থানীয় লোকজনের বাড়ির আঙিনায় প্যাশন ফল গাছ রোপনের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্যাশন দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও আফ্রিকার ফল। আরোহী বা লতাজাতীয় এই গাছ মাচা, ঘরের ছাদ ও গাছ বেয়ে ওপরে ওঠে। বছরে দুবার ফলন পাওয়া যায়। প্রথমবার জুলাই-আগস্ট মাসে, দ্বিতীয়বার ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। গাছ লাগানোর ১৪-২০ মাসের মধ্যেই ফল ধরে। ১৮-২০ মাস বয়সের একটি গাছে ১০০-২০০টি ফল পাওয়া যায় অর্থাৎ গাছ প্রতি ৫-১০ কেজি ফল মেলে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। ফল থেকে শরবত ছাড়াও এর মণ্ড প্রক্রিয়াজাতকরণ করে আইসক্রিম, জুস, স্কোয়াশ, জ্যাম ও জেলি প্রস্তুত করা যায়। বীজ ও খোসা থেকে পেকটিন ও উচ্চ মাত্রার লিনোলিক অ্যাসিড–সমৃদ্ধ তেল তৈরি করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ দেশে প্যাশন এখনো সেভাবে চাষ করা না হলেও পাহাড়ের মাটি এই ফল চাষের উপযোগী। আমরা প্যাশন ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা প্যাশন ফল চাষ করার নিয়মকানুন দেখিয়ে দিচ্ছেন। এই ফল চাষে খরচ কম বলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *