স্ত্রী নির্যাতনকারী এএসপি নাজমুস সাকিবকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত

সারাবাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও ভ্রূণ হত্যার দায়ের পুলিশের এএসপি নাজমুস সাকিবকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাত (ভ্রূণ হত্যা) ঘটানোর দায়ে পুলিশের এএসপি নাজমুস সাকিবকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

এদিকে, নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে পুলিশের ডিসিপ্লিন কমিটি।

গেল ১৮ আগস্ট নাজমুস সাকিবকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন শেষে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে বলা হয়। কিন্তু, আদালত তাকে পুনরায় জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

গত ৪ মে যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন নাজমুস সাকিবের স্ত্রী ইসরাত রহমান। মামলায় সাকিবের বাবা ও মাকেও আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্ত্রী ইসরাত রহমানের আইনজীবী।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনবছর আগে নাজমুস সাকিবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কন্যা ইসরাত রহমানের। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও চিকিৎসা নিতে হয়। এমনকি ইসরাত রহমান সন্তান সম্ভবা হওয়ার পরও অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ নাজমুস সাকিবের স্ত্রীর। এছাড়া নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ইসরাত রহমানকে ক্রসফায়ারের হুমকিও দেন নাজমুস সাকিব।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *