স্বল্প খরচে ইন্টারনেট পাবে জবি শিক্ষার্থী

শিক্ষাঙ্গন

প্রথম ছাত্রী হলের উদ্বোধন হবে ২০ অক্টোবর
মাহমুদুল হাসান ইমন, জবি থেকে
করোনা সংকটে শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচে ইন্টারনেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান ঢাকা প্রতিদিনকে এ তথ্য জানান। উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, করোনার প্রকোপে অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করছে। ইন্টারনেট ডেটা ও নেটওয়ার্ক সমস্যায় তাদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আগেই শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবে। অপরদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম ছাত্রী হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। এ মাসের ২০ অক্টোবর ১৫ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে হলটি উদ্বোধন করা হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা ঘুচছে দেশের অন্যতম সেরা ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সকাল সাড়ে দশটায় যথাযথ স্বাস্থবিধি মেনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং বেলুন উড়িয়ে ছাত্রী হলটির উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।তবে উদ্বোধকের জায়গায় জবি ভাইস চ্যান্সেলরের নাম থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাতার নামানুসারে হলটির নামকরন করা হলেও প্রধানমন্ত্রীকে কেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে রাখা হয়নি এমন প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম হল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছার নামে।করোনাকালীন অনাড়ম্বরভাবে হলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা উদ্বোধন হলে জবি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি পাওয়া হত।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে চাইলেই এটি সম্ভব। এদিকে হলের প্রভোস্ট ড. আনোয়ারা বেগম একই প্রশ্ন রেখে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে কেন হলের উদ্বোধক হিসেবে রাখেনি ভিসি? যেখানে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের প্রকল্প ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ চাইলে কি তিনি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতেন না? অবশ্যই থাকতেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে হলের উদ্বোধক হিসেবে রাখা যেত কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “হল উদ্বোধন কে করবে না করবে সেটা তো বিজ্ঞপ্তিতেই বলে দেওয়া হয়েছে। সেটাই ফাইনাল। এ নিয়ে কে কি লিখছে (বলছে) তাতে আমার কিছু যায় আসে না, সেটা তাদের বিষয়।”উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর হলটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি.। এর পরের বছর ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর ৯ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটির নির্মাণকাজের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের তৎকালীন চেয়্যারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *