শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নরসিংদীতে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে আরাফাতের ঈদের নামাজ আদায় ঈদের দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, আর বিএনপি আসে নিতে : প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা দেশ থেকে যেন অপরাজনীতি যেন চিরতরে দূর হয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনসহ সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত নেতানিয়াহু গাজা প্রশ্নে ‘ভুল’ করছেন : বাইডেন বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতর শেখ হাসিনা গরীবের পরম বন্ধু : ড. মোমেন বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি এবং শিক্ষার পরিবেশ দুটিই থাকা উচিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : ওবায়দুল কাদের জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় কান্তা কন্সট্রাকশনের আয়োজনে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার দিচ্ছেন আমিনুল ঢাকাস্থ সরাইল সমিতি’র উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঢাকা-ব্রাজিল সামগ্রিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর গ্রামের বাড়িতে শতাধিক দুস্থদের মাঝে খোকনের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ শ্রীপুরে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবারের ঈদে ঢাকা ছাড়তে ৯৮৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত ভাড়া গুনবেন যাত্রীরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ১০ জন নিহত অসহায় মানুষের সঙ্গে ঈদ আনন্দে সামিল হলো এনএফএস মানিক লাল ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত পাইকগাছার কপিলমুনিতে ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরা হলো না বাবলু ডাক্তারের তাড়াশে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা শ্রীপুরে ৫শ অসহায় মানুষের মাঝে প্রতিমন্ত্রীর ঈদ সামগ্রী বিতরণ সালথায় ভেজাল তৈল তৈরির কারখানায় পুলিশের অভিযান: অসাধু ব্যবসায়ী আটক

স্বাধীনতা বিরোধীদের গায়ের কাঁটা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ : মানিক লাল ঘোষ

মানিক লাল ঘোষ
মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩, ৩:২২ অপরাহ্ন
সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ। (ছবি: সংগ্রহীত)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ন’মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে নিপীড়িত বাঙালি জাতি লাভ করে তাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ। বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন যে মহামানব তিনি এদেশের সব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান স্বাধীনতার স্থপতি, নীপিড়িত মানুষের মুক্তির কন্ঠস্বর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পাকিস্তানী শাষক ও শোষকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অনেকটা নিরস্ত্র হাতেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশের সাধারণ মুক্তিকামী মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঁচা-মরার লড়াইয়ের সংগ্রামে। বজ্রকণ্ঠে তিনি মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত জনতার বিশাল জনসমুদ্রের সামনে এসে বাঙালির মুক্তির মহাদূত , মহাকাব্যের মহাকবি শোনান তাঁর অমর কবিতা খানি। তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে ছিলো এক একটি আন্দোলনের প্রেরণা, প্রতিটি লাইনে ছিলো এক একটি নির্দেশনা। তিনি তাঁর ভাষণে একদিকে তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানের ২৩ বছরে শোষণ, শাসন , বঞ্চনা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের ইতিহাস , অন্যদিকে অসহযোগের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতিরও ঘোষণা দিয়েছিলেন। দূরদর্শি বলেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন ৭ মার্চে তাঁর ভাষণের পর তাকে আর ছেড়ে দিবে না পাকিস্তান জালেম সরকার। হয় মৃত্যুর দুয়ার, নয় আবারো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠই হবে তাঁর শেষ ঠিকানা। তাই তিনি ঘোষণা করেছিলেন “”আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। ” তিনি পাড়া মহল্লা, থানা ও জেলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার আহবান জানান। বলেছিলেন রক্ত যখন দিয়েছি,রক্ত আরো দেবো,এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বোই ইনশাল্লাহ। বজ্রকণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই সাহসী তেজোদীপ্ত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে যে মহাকাব্য বঙ্গবন্ধু রচনা করেন সেদিন রেসকোর্স ময়দানে, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে আজ তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ইউনেস্কোর প্রামাণ্য বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ৭ মার্চ শুধু আজ বাঙালি কিংবা বাংলাদেশের সম্পদ নয়, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কদের ভাষণের মধ্যে অন্যতম। মাত্র একটি ভাষণ কীভাবে বদলে দিলো একটি মানচিত্র, জন্ম দিলো নতুন জাতিসত্ত্বা আর নতুন রাষ্ট্রের তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই ভাষণের মধ্যে বিশ্বের নিপীড়িত, অধিকারবঞ্চিত মানুষ আজ তাঁর মুক্তির দিশা খুঁজে পায় ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, অনেক ভাষায় তার অনুবাদ হয়েছে। কিন্তু এই ভাষণ প্রচার নিয়ে ষড়যন্ত্র ও বাধা প্রদানের ঘটনাও কম ঘটেনি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে প্রথম বাধা আসে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারে বাধা। স্বাধীনতা বিরোধী খুনীচক্রের ভয় ছিলো এই ভাষণে নতুন করে বঙ্গবন্ধুর চেতনায় আবারো জেগে উঠবে বাঙালি। ৭৫ পরবর্তী স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা যখন ক্ষমতায় আসে, তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারে বাধা দেয়। দীর্ঘ ২১ বছর অনেকটাই নিসিদ্ধ ছিল ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার।তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো ইতিহাস বিকৃতি করে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের একজন পাঠককে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রকারীরা আজ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত। ইতিহাস এমনই হয়। ষড়যন্ত্র করে ক্ষণিকের জন্য ইতিহাস বিকৃতি করা যায়, কিন্তু প্রকৃত সত্যকে বেশি দিন আড়াল করা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে যারা ধারণ করেন না, জয় বাংলা শ্লোগানে যাদের গায়ে জ্বর আসে, ৭ মার্চের ভাষণ শুনলে যাদের গায় কাটা বিধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যারা বিশ্বাস করে না সেই বিএনপি জামায়াত আর স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তির এই স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

লেখক:
সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।


এই বিভাগের আরো খবর