স্বামীর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চান সাহিদা

সারাবাংলা

উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ থেকে
সুন্দর একটি ড্রাগন ফল বাগানের গর্বিত মালিক হওয়ার স্বপ্ন ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানের। যে বাগানের আয় দিয়ে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা মোটেও কষ্টকর হবে না। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়বে সুখ্যাতিও। কিন্তু বিধি বাম! চলতি বছরের ৪ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত জিয়াউর রহমান (৪২) রোগভুগে গত ২৬ জুলাই চলে যান না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে জিয়াউর রহমান সংসারে বৃদ্ধ পিতা আফিল উদ্দিন (৭০) স্ত্রী সাহিদা খাতুন, বড় মেয়ে সুমনা, (নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত) ছেলে সাব্বির (অষ্টম শ্রেণি) ও মুজাহিদকে (প্রথম শ্রেণি) রেখে যান। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের গৃহবধূ সাহিদাকে হাল ধরতে হয় সংসারের। স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি জমির পাশাপাশি ড্রাগন ফল বাগানের আয় দিয়ে কোনোরকমে চলে সাহিদার সংসার। তিনি চান স্বামীর লালিত স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে; ধরে রাখতে চান স্বামীর স্মৃতি চিহ্নটুকু।
সরেজমিন জানা যায়, ওই গ্রামের জিয়াউর রহমান ২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান সুদূর মালয়েশিয়ায়, ফেরেন ২০১৮ সালে। সেখানে জিয়াউর রহমানের কাজ জুটে ড্রাগন বাগানে। সেই সুবাদে তিনি ড্রাগন ফল চাষের আবাদ ও পরিচর্যা বিষয়ে আদ্যোপান্ত রপ্ত করেন। দেশে ফিরে জিয়াউর রহমান নিজের ২৮ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উদ্বুদ্ধ হন বাংলাদেশ টেলিভিশনের ড্রাগন চাষ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন দেখে। পরে ময়মনসিংহ হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ড্রাগনের চারা সংগ্রহ করে শুরু করেন আবাদ। টানা কয়েকমাসের পরিচর্যার পর একসময় ফুল ও ফল ধরে ড্রাগনের। প্রথম ধাপের ফল বিক্রির পর পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন জিয়াউর রহমান। পরে একদিকে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, অন্যদিকে ড্রাগনফল বিক্রি ও বাগানের পরিচর্যা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সাহিদা। এসময় উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে বাগানের নিয়মিত তদারকি ও ফল বিক্রিতে সহযোগিতার হাত বাড়ান দুইজন স্বেচ্ছাসেবক। তারা হলেন হারুয়া গ্রামের কলেজ পড়ুয়া মো. নূরুল আমীন ও নিজগাঁওয়ের আমীর হামজা। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী সাহিদা খাতুন জানান, আমার স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন ড্রাগন ফলবাগানটিতে গেলে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাই। আমি চেষ্টা করবো স্বামীর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, জিয়াউর রহমান উপজেলার প্রথম ড্রাগন চাষি। তার বাগানের ১৫৯টি পিলারে ৬ শতাধিক ড্রাগন গাছ রয়েছে। বছরে প্রায় নয় মাস ফল ধরে। বর্তমানে বাগানে জৈবসার ব্যবহারের পাশাপাশি আমরা নিয়মিত দেখভাল করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, উপজেলার একমাত্র ড্রাগন ফলবাগানের উদ্যোক্তা মারা যাবার পর বাগানটির হাল ধরেন তার স্ত্রী। ব্যতিক্রমী এ ফলের আবাদ ও নারী উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করতে আমরা তাকে প্রথমে আর্থিক সহযোগিতা করবো। তা ছাড়া এমন উদ্যোগে যাতে অন্যরাও এগিয়ে আসে সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের সকল সুবিধা সাহিদাকে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *