স্বার্থে আঘাত লাগায় সমালোচনা করছে : ওয়াসা এমডি

জাতীয়

অনলাইন ডেস্ক : ২০০৯ সালে তাকসিম এ খানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তার মেয়াদ বাড়ানো হয় ৫ দফা। এর মধ্যে পঞ্চম দফার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৪ অক্টোবর। এর আগে নানা সমালোচনার মুখে তাকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয় সরকার। এক মতবিনিময় সভায় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান মন্তব্য করে বলেন, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই ঢাকা ওয়াসার সমালোচনা করছে।

আজ শুক্রবার ঢাকা ওয়াসার গত ১০ বছরের অর্জিত সফলতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরের ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার তাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে।

তাকসিমের পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের একটি রিট হয়েছে, আগামী রোববার যার আদেশের তারিখ রয়েছে। তার পুনঃনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআরবি)।

শুক্রবার মতবিনিময় সভার শুরুতে গত ১০ বছরের অর্জনের ফিরিস্তি তুলে ধরেন তাকসিম এ খান। এছাড়া ওয়াসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানান। পরে সাংবাদিকরা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, গত দশ বছরে ওয়াসার অনেক সাফল্য আছে, অর্জন হয়েছে। সরকারও অর্জন চায়, সাফল্য চায়। এ কারণেই তাকে আবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা ওয়াসার নেওয়া দাঁড়াও কর্মসূচির পাঁচটি চ্যালেঞ্জের একটি হচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল। ওয়াসার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘অনৈতিক, অবৈধ, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি’ যারা করতে পারছে না তারাই এসব সমালোচনা করছে।

তাকসিম বলেন, “আমাদের পাঁচটা চ্যালেঞ্জর মধ্যে পঞ্চমটা হচ্ছে ভেস্টেড ইন্টারেস্টেড গ্রুপ। সব জায়গায় এই ধরনের একটা গ্রুপ থাকতে পারে, যেটা আমাদের ভেতরেও আছে, বাইরেও আছে। সরকারের মধ্যে আছে, সরকারের বাইরে আছে। যাদের স্বার্থে আঘাত পড়ে তারাই এই সমালোচনা করে। তারা একটা সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রচারণাও চালায়।”

তিনি বলেন, “ওয়াসার গত দশ বছরের কর্মকাণ্ডে অস্বচ্ছতা নেই। ওয়াসায় সুশাসন ফিরেছে। এটা হতে গিয়ে অনেকের স্বার্থে লেগেছে, অসুবিধা হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথা বলা হলেও রাজধানীর সেবাসংস্থাগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করা সাংবাদিকরা সেখানে আমন্ত্রণ পাননি।

এর কারণ জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “এমনটি হওয়ার কথা নয়। কারণ বিষয়টি সবাইকে জানানো হয়েছে। যদি না জানানো হয়ে থাকে তাহলে আমি অবশ্যই খোঁজ নেব।”

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ঢাকায় দৈনিক ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ওয়াসা ২৬৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। ৮৬০টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভ থেকে এবং পাঁচটি শোধনাগারের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *