সৎ ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকি ৯৯৯ ফোন করে উদ্ধার

সারাবাংলা

ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল থেকে
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না পূর্বপাড়ায় আ. বাছেদ তালুকদার ও তার পরিবারকে টিনসেড বিল্ডিং এর বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকির অভিযোগ ওঠেছে সৎ ভাই হামিদ তালুকদারে বিরুদ্ধে। পরে জরুরি পরিষেবা ৯৯৯- এ ফোন করলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে তাদেরকে উদ্ধার করে। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুন্না পূর্বপাড়ার প্রভাবশালী আবেদ আলী তালুকদার জীবদ্দশায় তিন স্ত্রীর ঘরে চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর বসতবাড়ির ২১ শতাংশ ভূমি নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে আ. বাছেদ তালুকদার ও তৃতীয় পক্ষের ছেলে হামিদ তালুকদারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে ওই বিরোধ পারিবারিক শত্রুতায় রূপ নেয়। এ নিয়ে ইতোপূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ঝগড়া হয়েছে। সর্বশেষ পারিবারিক শত্রুতার রেশ ধরে গত রোববার সকালে সৎভাই হামিদ তালুকদার দলবল নিয়ে বাছেদ তালুকদার ও তার ছেলে মেয়েদের উপর আক্রমন করে। স্থানীয়রা জানায়, হামিদ তালুকদারদের আক্রমনে আহত আ. বাছেদ তালুকদার ও তার ছেলে-মেয়েরা নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় হামিদ তালুকদারের পক্ষ থেকে আ. বাছেদ তালুকদারদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এবং বিল্ডিংয়ের কাচের জানালা ভাঙচুর করে। ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আ. বাছেদ তালুকদারের মেয়ে শিখা আক্তার জরুরি পরিষেবা ৯৯৯- এ ফোন করে বিস্তারিত ঘটনা জানায়। পরে বাসাইল থানার এসআই মো. আজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের উপস্থিতিতে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায়,অভিযুক্ত সৎ ভাই হামিদ তালুকদারকে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বাছেদ তালুকদার বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং তার উপস্থিতিতেই তালা ভেঙে ঘর থেকে আ. বাছেদ তালুকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। দুই সৎভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। একাধিক বার গ্রাম্য সালিশ করেও বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
বাসাইল থানার এসআই মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, জরুরি পরিষেবা মারফত খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ অনেকের উপস্থিতিতে ঘরের তালা ভেঙে বাছেদ তালুকদার ও তার মেয়েদের উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে বাসাইল পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ জানান, ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এক পক্ষের অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় (৯৯৯) যারা ফোন করেছিলেন তাদের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *