সড়কে খানাখন্দ

সারাবাংলা

জুয়েল রানা, সুন্দরগঞ্জ থেকে:
সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাটু জল। পৌর শহরের রাস্তাঘাট অসংখ্য খানাখন্দে ভরে গেছে। ড্রেন এবং পাকা সড়ক নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে পৌরসভার সড়ক সমূহ। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ বাহিরগোলা মোড় থেকে ডাক বাংলো মোড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ড্রেনের গর্তে ভেঙে পড়ছে পাকা সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানার দেয়াল। এদিকে মীরগঞ্জ বাজার সড়কের ড্রেন বন্ধ থাকার কারণে সড়কে জমে গেছে হাটু জল। অবিরাম বর্ষনের কারণে থানা ও আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ড্রেনের গতে সড়ক ভেঙে পড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য বহুবার আবেদন করা হয়েছে। তারপরও ড্রেন নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। সে কারণে সড়ক সমূহ ভেঙে যাচ্ছে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মেহেদুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার মেসার্স মতলুবুর রহমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বাহিরগোলা মোড় থেকে ডাক বাংলো মোড় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন হতে বাজারের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৫ মিটার ড্রেন এবং ৬২০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করছে। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্ধিত সময়সীমা ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্যাকেজটির বিপরীতে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এখনও নির্মাণ কাজের সিংহভাগ বাকি রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ড্রেনের গর্ত করা হলেও ঢালাইয়ের কাজ না করায় থানার সীমানা দেয়ালের প্রায় দেড়শ ফুট ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়াল এবং থানার সীমানা দেয়াল হুমকির মুখে পড়েছে। অবিরাম বর্ষণের তোড়ে গর্তে ধসে যাচ্ছে পাকা সড়ক। পৌরবাসী রেজাউল ইসলাম জানান, ধীরগতিতে ড্রেন নির্মাণের কারণে সীমানা দেয়াল এবং পাকা সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাঈদ হাসান লোটন জানান, বৃষ্টি বাদলের কারণে প্রতিদিন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও স্যালো মেশিন দিয়ে জল সরিয়ে ফেলে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। সাবেক মেয়রের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ড্রেন নির্মাণ বিলম্ব হয়েছে। সড়ক ধসে যাওয়ার ব্যাপারে পৌর সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পৌর মেয়র আব্দুর রশীদ রেজা সরকার ডাবলু জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অবিরাম বর্ষণের কারণে ড্রেনের গর্তে পাকা সড়ক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা দেয়াল ধসে পড়ছে। তা ছাড়া ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *