সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ

জাতীয়

এসএম দেলোয়ার হোসেন:
চলার পথে রাজধানীতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে হতাহতের ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রতিনিয়ত নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। অসচেতনতার কারনে কোন উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। সড়কে নৈরাজ্য চলছেই। উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তা পারাপার, যেখানে-সেখানে গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে মোড়ে প্রতিনিয়ত রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এমন বাস্তবতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে প্রস্তুত করা হচ্ছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে নারীসহ ১০০ ট্রাফিক পুলিশকে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ সনদ। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। আজ বুধবার (৩ মার্চ,২০২১) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। গণপরিবহনের নৈরাজ্য ঠেকাতে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অসচেতনতার কারনে ট্রাফিক পুলিশের নেওয়া উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় সড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। এসব থেকে উত্তোরণে জনসম্পৃক্ততা আর জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাফিক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলছেন, জনগণের কল্যানে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে মোড়ে প্রতিনিয়ত রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিতে যাত্রী-পথচারী ও চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানীরোধে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানে ট্রাফিক পুলিশকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। চলমান এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নারী পুলিশসহ ১০০ পুলিশ সদস্যকে ‘প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ’ কোর্স সম্পন্ন করানো হয়েছে। কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী নারী ট্রাফিক পুলিশসহ ১০০ জন পুলিশ সদস্যকে সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। এ জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে এবং তা বাস্তবায়নে ট্রাফিক পুলিশদের মানসিকভাবেও প্রস্তুত করাসহ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানায়, ইতোমধ্যেই ‘প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ’ নেওয়া মতিঝিল বিভাগের প্রশিক্ষণার্থী ১০০ পুলিশ সদস্যের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩ মার্চ,২০২১) বেলা ১১ টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে এসব সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মনিরুল ইসলাম।
সনদপত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথি সিটিটিসি’র প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত সাড়া প্রদানকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসার মত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ দেবার জন্য আমি আইসিআরসিকে ধন্যবাদ জানাই। এই প্রশিক্ষণের ফলে সড়কে যে কোন দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে পারবে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। আমি বিশ্বাস করি এই ট্রেনিং এর ফলে তারা আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল ট্রাফিক পুলিশকে অভিনন্দন জানাই। এছাড়াও, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আইসিআরসির দেওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম সড়কে আহত ব্যক্তিদের সেবায় কাজে আসবে বলেও জানান সিটিটিসি’র প্রধান।
অনুষ্ঠানে আইসিআরসির হেড অব অপারেশন ডেভিড মন্তেস বলেন, যে সব মানুষ বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের যথাসময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে তাদেরকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া উচিত। আমরা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানকারীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছি। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে তারা যেন মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং বাঁচাতে সক্ষম হয় সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, সিটিজেন সার্ভিস সেন্টার প্রচারাভিযানের ক্যাম্পেইনের আওতায় ডিএমপি ও ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেডক্রস (আইসিআরসি) এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজারবাগ ট্রাফিক ব্যারাক কনফারেন্স হল রুমে এ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। তিন সপ্তাহব্যাপী ‘প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ’ কোর্সের কার্যক্রম গত ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে গত ২ মার্চ শেষ হয়। এ প্রশিক্ষণে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল হতে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত মোট ১০০ জন সদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার ও ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *