হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মিন্নি: রাষ্ট্রপক্ষ

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তারই স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার পর এ মন্তব্য করে রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ে ২৪ আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এর মধ্যে ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। তবে, রায়ে আদালত বলেছে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। এছাড়া মিন্নি তার স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে পেরেছে।

রিফাতের স্ত্রী বরগুনার সরকারি কলেজের সামনে যখন রিফাতকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হচ্ছিলো তখন তার স্ত্রী মিন্নিকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল ভিডিওতে। তিনি ছিলেন মামলার এজাহারের এক নম্বর সাক্ষী। কিন্তু তদন্তের পর পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রে মিন্নির নাম যুক্ত করে আসামির তালিকায়। মিন্নিকে করা হয় মামলার ৭ নম্বর আসামি। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসে স্বামী রিফাতকে হত্যার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তারই স্ত্রী। গ্রেপ্তার করা হয় মিন্নিকে

নয়নবন্ড ও তার সহযোগীরা যখন রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায় তখন মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য যে চেষ্টা চালান এগুলো ছিলো পরিকল্পনার অংশ। রিফাত শরীফ ও নয়ন বণ্ডের সঙ্গে দ্বৈত প্রেমের সম্পর্কের কারণে মনোমালিন্য হওয়ায় এই হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি।

গত বছর ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে নয়ন বন্ড ও তার বন্ধুরা রিফাত শরীফকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ২৭ জুন বরগুনা থানায় নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় বাদী ৬ জুলাই মিন্নিকে আসামি করার জন্য বরগুনা থানায় একটি আবেদন করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির ১৬ জুলাই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করেন।

১৯ জুলাই মিন্নি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মিন্নিকে বরগুনা জেলা জজ ৩০ জুলাই জামিন নামঞ্জুর করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

পরে ২৯ আগস্ট মিন্নিকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির জামিন বাতিল চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন। চেম্বার জজ ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। এরপর থেকেই জামিনেই ছিলেন মিন্নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *