হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত মানুষ

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত মানুষ

সারাবাংলা

জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ থেকে : হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল। জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এটি। প্রতিদিন এই হাসপাতাল থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু দিন দিন হাসপাতালটির স্ক্যানু ওয়ার্ড ও এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ছে। এমনিতেই হাসপাতালটিতে নেই তেমন কোনো অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। তারপর আবার যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুষ্ঠু সমাধান চান ভোক্তভোগী রোগীরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং যন্ত্রপাতির সমস্যা নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়াইশ শয্যার এ হাসপাতালটির জন্য সদ্য নির্মিত হয়েছে ৭ তলা একটি ভবন। বর্তমানে ওই ভবনটিতে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও নিচতলার দুটি ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ যন্ত্রপাতি বিকলের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী স্বল্পতার কারণে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হবিগঞ্জবাসী। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষরাই পড়ছেন বেশি বিপাকে।

সরেজমিনে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, মূমুর্ষ রোগীদের জন্য হাসপাতালটিতে নেই কোনো এনআইসিইউ বা আইসিইউ’র ব্যবস্থা। শিশু রোগীদের জন্য স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১১টি ওয়ার্মার থাকলেও সচল মাত্র ৭টি। বাকীগুলো ইতোমধ্যে বিকল হয়ে পড়েছে। একেকটি ওয়ার্মারে ১ জন করে বাচ্চা রাখার কথা থাকলেও রাখা হচ্ছে ২ থেকে ৩ জন করে। ১টি মাত্র ইনকিউবেটর থাকলেও তাও প্রায় সময়ই সেটিও থাকে অচল। দুটি ফটো থেরাপী থাকলেও সচল মাত্র ১টি। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে শুধু স্ক্যানুতেই মারা গেছে ২৫ জন নবজাতক। এর মধ্যে জেলার বাইর থেকে আসা নবজাতকও রয়েছে। যদিও বিষয়টি সম্পর্কে সঠিত তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে দায়িত্বরতরা। এদিকে শীতের শুরুতেই ঠান্ডা জনিত রোগী বাড়ছে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা।

তফুরা আক্তার নামে এক নারী জানান, তিনি তার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসার জন্য ওই নবজাতককে স্ক্যানু বিভাগে নেওয়া হয়। পরে সেখানে ওয়ার্মার মেশিনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রোগী থাকায় চিকিৎসা না করিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চলে যান। একই ধরনের ভোক্তভোগী নারী আফরোজা আক্তার জানান, নবজাতককে ওয়ার্মারে রেখে চিকিৎসা করাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে তাদের। তাই শিশুদের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। গোলক চক্রবর্তী নামে এক রোগী অভিযোগ করে জানান, তিনি এক্সরে রুমে গেলে তাকে বলা হয় মেশিন নষ্ট। এ সময় তাকে প্রাইভেট ক্লিনিকে এক্সরে করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হবিগঞ্জ পৌর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পিযুষ চক্রবর্তী জানান, নবজাতকের মৃত্যুর হার কমাতে এনআইসিইউর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া বিকল হওয়া যন্ত্রপাতি যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামত না করে তা হলে চিকিৎসাসেবার চরম ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হতে হবে। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা স্ক্যানুতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এখন নিয়মিত দু’জন চিকিৎসক দায়িত্বে থাকেন। আগে তাও ছিল না। এ ছাড়া যন্ত্রপাতির সমস্যা নিয়েও আমরা কাজ করছি। শিশু ওয়ার্ড ও স্ক্যানুকে সক্রিয় রাখতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *