হাওরে বোরো চাষ অতীতের রেকর্ড ভাঙবে

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে:
কিশোরগঞ্জের ১ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এতে আবহাওয়ার অনুকূলে থাকলে বোরো চাষে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে। এ বছর প্রায় ৫৮ লাখ টন ধান উৎপাদন হবে আশা করছে কৃষি বিভাগ। চারিদিকে সবুজ ধানক্ষেত। উপজেলাগুলোতে সবুজ মাঠ ভরে গেছে বোরো ধানের চাষে। কৃষকেরা ব্যস্ত ধানের ক্ষেত পরিচর্যায়। আগাছা পরিষ্কার, সার ছিটানো আর পোকা দমনে চলছে পরিচর্যা। আবহাওয়ার অনুকূলে থাকলে বোরো চাষে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার রেকর্ড ধানের উৎপাদন হবে। চলতি বোরো মৌসুমে গত বারের তুলনায় প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে বেশি ধান চাষ হয়েছে। এ বছর হোসেনপুরে ৭ হাজার ৬৬০ হেক্টর, কিশোরগঞ্জ সদরে ৯ হাজার ২১০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১০ হাজার ২৩০ হেক্টর, কটিয়াদীতে ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর, করিমগঞ্জে ৯ হাজার ৬৭০ হেক্টর, তাড়াইলে ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর, ইটনায় ২৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর, মিঠামইনে ১৬ হাজার ১৮০ হেক্টর, নিকলীতে ১৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ২৪ হাজার ১৩৫ হেক্টর, বাজিতপুরে ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হাজার ৫৬৫ হেক্টর ও ভৈরবে ৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রতি মণ ধানের বর্তমান বাজার দর ১১শ টাকা। ধানের খড় বা বিচালি বিক্রি হচ্ছে মোটা দামে। ধান এবং বিচালির দাম স্থিতিশীল থাকলে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাটিয়ে উঠতে পারলে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে কৃষকরা এবার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের চাষীরা ইটনা উপজেলার এলংজুড়ি ইউনিয়নের কাকটেঙ্গুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর বোরো ধান কৃষকের ঘরে উঠার সাথে সাথে অসৎ আড়ৎদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা চক্র করে ধানের দাম কমিয়ে দেয়। প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকায় কম মূল্যে কৃষকদের ধান বিক্রি করে দিতে হয়। ধান ক্রয় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা গেলে প্রকৃত চাষিরা সুফল পাবে। এ জন্য সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। নচেৎ গতবারের মত এবারও ধান চাষিরা ধানের প্রকৃতমূল্য না পেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *