হাওরে ব্যস্ত কৃষক

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে : কিশোরগঞ্জের হাওরে বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষক কোমর বেধে জমি আবাদে ব্যস্ত। গোটা হাওর জনপদে এ সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। কৃষকরা সবুজ ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলা হাওর অধ্যুষিত। হাওর অধ্যুষিত এ চার উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে প্রায় দুই লাখ হেক্টর। এর মধ্যে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর।

চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ইটনায় ২৬ হাজার ২০৫ হেক্টর, মিঠামইনে ১৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ২৩ হাজার ৪২৪ হেক্টর, নিকলীতে ১৩ হাজার ৯৮৫ হেক্টর, হোসেনপুরে ৭ হাজার ৬৯৫ হেক্টর, কিশোরগঞ্জ সদরে ৮ হাজার ৮৭৮ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১০ হাজার ৯৫ হেক্টর, কটিয়াদীতে ১২ হাজার ৭৬০ হেক্টর, করিমগঞ্জে ৯ হাজার ৭১০ হেক্টর, তাড়াইলে ১০ হাজার ৩৩৫ হেক্টর, বাজিতপুরে ১২ হাজার ১১১ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হাজার ২২১ হেক্টর ও ভৈরবে ৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর। জেলায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ২ হাজার ৬৭১ টন। হাওরের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের আবাদকৃত ধানের মধ্যে স্থানীয় জাত, উফসী এবং হাইব্রীড জাতের ধান রয়েছে। তবে এ বছর উফসী ধানের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবকটিতেই বোরো আবাদ হলেও ভূ-প্রাকৃতিক কারণে হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী উপজেলায় সর্বাধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। এক ফসলী এ এলাকার অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এ বোরো ফসল। তাই এখানকার কৃষক নিজেকে উজাড় করে দেন বোরো আবাদে। প্রাকৃতিক কোনো দৈব-দুর্বিপাকে না পড়লে হাওরে প্রতি বছরই ভালো বোরো ফলনের সম্ভাবনা থাকে। তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও কৃষককে ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে প্রায় সময়েই মাঠভর্তি কৃষকের সোনালী ধান তলিয়ে যায়। এত ঝুঁকির মধ্যেও এখন হাওরের মাঠে সরব পদচারণায় মুখর কৃষকেরা। তাদের একটাই চিন্তা, একখ- জমিও যেন কোনো অবস্থাতেই পতিত না থাকে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *