হাতিয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার গাড়ি চালক আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ

সারাবাংলা

সালাহ উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী থেকে:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তার ড্রাইভার আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাতিয়া থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীরা জানান, আরিফ জাহাজ মারা এলাকার মোহাম্মদপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। মাষ্টার রুলে হাতিয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তার গাড়ি চালক হিসেবে যোগদানের পর থেকে সে হয়ে উঠে মাফিয়া। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে অন্যের জমি ভোগদখল করা, কারো জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণে তাকে চাঁদা দেওয়া, এসিল্যান্ড বা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া না দিলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নির্যাতনসহ অনেক অনিয়ম সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠে তার নামে। ইতোমধ্যে একাধিক ভুক্তভোগী বদলী হওয়া ইউএনও সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও আরিফের বিরুদ্ধে তা তদন্ত হয়নি। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ প্রশাসনিক ভবনে মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। কোন অশুভ শক্তির কারণে কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছেন।
অভিযোগকারী কামরুজ্জামান জানান, তিনি তার ক্রয়কৃত ফসলী জমিতে কাজ করতে পারছেন না আরিফের ভয়ে। আরিফ তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। লোক পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের মারধর করার ভয় দেখায়। সে প্রভাব খাটিয়ে পেশি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অন্যায় অবিচার করছে। আমি ইউএনও স্যারের কাছে ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি নিরাপত্তহীনায় ভুগছি।
এ বিষয়ে আরিফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এবং প্রশাসনের সঙ্গে থাকার সুবাদে এলাকার বখাটে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় এক শ্রেনীর লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছে।
জাহাজমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ বিল্লাহ বলেন, আরিফের বিরুদ্ধে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। সে হাতিয়া নির্বাহী কর্মকর্তা (ভূমি) এর গাড়ি চালক হওয়ায় মানুষকে হয়রানি করে, মানুষ ভয়ে কথা বলে না। সে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনৈতিক কাজের সঙ্গেও জড়িত রয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবো।
এদিকে জাহাজমারা ফাঁড়ি থানার এএসআই সাদ্দাম হোসেন জানান, আমাদের ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন স্যার আরিফকে কয়েকবার ডেকে এনে সাবধান করেছেন। তিনি যেন কোন নিরীহ মানুষের উপর প্রভাব না খাটান। আমার কাছে একটা অভিযোগ তদন্তাধিন আছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *