হার নিয়ে ক্রিকেট থেকে বিদায় উমর গুল

খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদায়টা এভাবে হবে, তা হয়তো কখনও কল্পনাও করেননি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা পেসার উমর গুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন আগেই, খেলে যাচ্ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। শুক্রবার ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ থেকে তার দল বেলুচিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর সবধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী গুল।

নিজের ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া হয়নি গুলের। আগে ব্যাট করে তার দল বেলুচিস্তান করেছিল ১৬১ রান। জবাবে মাত্র ১০.৪ ওভারেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায় সাউদার্ন পাঞ্জাব, এর মধ্যে গুলের ২ ওভার থেকেই ৩৪ রান নিয়েছে তারা। এ জয়ে নিশ্চিত হয় তাদের শেষ চারের টিকিট, বাদ পড়ে যায় বেলুচিস্তান।

ম্যাচশেষে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছেড়েছেন গুল। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলার পর নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারছিলেন না পেশোয়ারে জন্ম নেয়া এ পেসার। সতীর্থ-প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। দুই দলের খেলোয়াড়রা মিলে দেন গার্ড অব অনার।

পরে বিদায়ী বক্তব্যে গুল বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে নিজের ক্লাব, শহর, প্রদেশ এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা অনেক বড় সম্মানের। আমি শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ক্রিকেট উপভোগ করেছি। এটা আমাকে কঠোর পরিশ্রম, শ্রদ্ধা, আত্মনিবেদন ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা দিয়েছে। এ যাত্রায় আমি এমন অনেক মানুষের সঙ্গ পেয়েছি, যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে আমাকে। আমি তাদেরকে এবং আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে সমর্থন দিয়ে যাওয়া ভক্তদের আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই। তারা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল, বিশেষ করে যখন কোনোকিছু আমার পক্ষে ছিল না। সবশেষ আমি আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যাদের সাহস-অনুপ্রেরণায় আমি ক্রিকেট খেলতে পেরেছি এবং আত্মত্যাগের কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করতে পেরেছি। আমি কিছুদিন ক্রিকেট থেকে বাইরে পরিবারের সঙ্গে থাকব। তবে একেবারে ক্রিকেটের বাইরে থাকা অনেক কঠিন। আবার ফিরব ক্রিকেটে।’

২০০১-০২ মৌসুমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল গুলের। জাতীয় দলে নাম লেখাতে মাত্র ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে হয় তার। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরে টেস্ট অভিষেক হয় ঝাঁকড়া চুলের এ পেসারের। একই মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি প্রায় চার বছর আগে খেলেছেন গুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে শেষবার চাঁ-তারার পতাকার প্রতিনিধি হয়েছিলেন তিনি। প্রায় এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৭ টেস্ট, ১৩০ ওয়ানডে ৬০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন গুল। যেখানে তার শিকার যথাক্রমে ১৬৩, ১৬৯ ও ৮৫টি উইকেট।

এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ১২৫ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ২১৩ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ও ১৬৭ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ডানহাতি এ পেসার। সবমিলিয়ে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে ৯৮৭টি উইকেট। ২০০৯ সালে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর পথে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েছিলেন গুল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *