হুইল চেয়ারের জন্য প্রতিবন্ধীর আর্তনাদ

সারাবাংলা

বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি থেকে : মো. হাফিজুল রহমান জন্ম থেকে শারিরীক প্রতিবন্ধী। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পড়ালেখার প্রতি তার অদ্যম ইচ্ছা থাকা সত্বেও পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে আর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। উপরন্তু শারিরিক প্রতিবন্ধতার কারণে স্কুলের সহপাটি ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। ফলে তার স্কুলে না যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান। সে উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের কামার গ্রামের ইয়াজউদ্দিনের ছেলে। কৈশর বয়সেই পিতা মারা যাওয়ার অল্প কিছুদিন পরই মাকেও হারান তিনি। পিতা-মাতাকে হারিয়ে অকেজো দুটি পা নিয়ে অতিকষ্টে প্রায় ৮/৯ কিলোমিটার দূরে বিভিন্ন হাট-বাজারে ভিক্ষা করে নিজের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে নিজ কুঠিরে থেকে ভিক্ষাবৃত্তি আর প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা দিয়ে কোন মতে অভাব-অনটনের মধ্যে দিনানিপাত করছেন। তার বোনের বাড়িতে খরচ দিয়ে কোন রকমে দু’বেলা দু’মোঠো ভাত মুখে দিচ্ছেন। পাশাপাশি পড়াশুনার প্রতি প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকা সত্বেও দারিদ্রতা আর শারিরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে স্কুলে যাওয়া না হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি সেই ইচ্ছাটি আর থেমে থাকেনি। নিজের একক প্রচেষ্টায় সে নবম/দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয় আয়ত্ব করেছেন। তবে ইংরেজী ও উচ্চতর গণিতে সামান্য সমস্যা থাকলেও তার পা দুটি অকেজো হওয়ার কারণে অন্যের কাছে গিয়ে সমাধান করে নিতে পারেন না।
সরেজমিনে তার আশ্রিত বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি মাটির কুড়ে ঘরের কোণে কাঠের চৌকিতে থাকেন। আর পাশেই টেবিলে রাখা আছে নবম/দশম ম্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের বই সহ অসংখ্য বই। জন্ম থেকেই দুই পা অকেজো হাফিজুরের বয়সের সঙ্গে দেহের বৃদ্ধি হয়নি তেমন। কিন্তু থামেননি তিনি। কখনো হামাগুড়ি দিয়ে আবার কখনো অন্যের ভ্যানে চড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ভিক্ষা বৃত্তি। তিনি জানান, সপ্তাহের তিনদিন বিভিন্ন হাটে বাজারে ভিক্ষা করেন। আর বাকী চারদিন ওই মাটির কুড়েঘরে বসেই পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকেন। জানালেন, বয়সের কারণে চলা ফেরায় কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে চলতে হচ্ছে। হাফিজুল জানায়, বেশ কিছুদিন আগে জেলা পরিষদ সদস্য মো. ফারুক হোসেনের কাছে একটি হুইল চেয়ারের জন্য আইডি কার্ডের ফটো দিলেও চেয়ারম্যানের কাছে আজ পর্যন্ত একটি হুইল চেয়ার তার ভাগ্যে জোটেনি। ফলে অতি কষ্টে প্রতিটি দিন সে হাট বাজার ঘুরে ভিক্ষা করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কোনো সদয় ব্যক্তি তাকে একটি হুইল চেয়ার দান করলে এই কষ্টটি আর করতে হবে না। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, বরাদ্দ সাপেক্ষে হুইল চেয়ারের চাহিদার আবেদন জেলা অফিসে দেওয়া হয়। সে আবেদন করলে আশা করি পেয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *