হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নিয়ে ক্ষুব্ধ লন্ডনীরা

সারাবাংলা

সাদিক চৌধুরী, সিলেট ব্যুরো : যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে আসা প্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিয়ে সিলেটে ও প্রবাসে চলছে আলোচনা সমালোচনা। যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন পালনের জন্য নগরীর ৯টি আবাসিক হোটেল নির্ধারন করে রাখে প্রশাসন। তবে এসব প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় দেশে আসা প্রবাসীদের। জানা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিআরটিসি বাসে করে হোটেলে নিয়ে আসা হয়। কিন্ত অনেক প্রবাসী জানেন না যে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। কিন্তু সিলেটে আসা মাত্রই নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। সেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ উচ্চ রেটের রুম দিলে তারা এত দামে হোটেলে থাকতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী জানান, এখানে কেউ বেড়াসে আসেননি। আমার মা মারা গেছেন। কেউ অসুস্থ বাবাকে দেখতে এসেছেন, কেউ নিজের বিয়ে বা আত্মীয় স্বজনের বিয়েতে এসছেন। কিন্তু হোটেলে এভাবে কোয়ারেন্টাইন করলে মাত্রাতিরিক্তি খরচের পাশাপাশি পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে তারা অংশ গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে। জানা যায়, দীর্ঘ জার্নির পর হোটেলে যুক্তরাজ্য থেকে আসা শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাইরের কাউকে দেখাও করতে দেওয়া হচ্ছেনা। আমরা করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে এসেছি। প্রয়োজনে দেশে আবারও টেষ্ট করাবো। আমাদেরকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন করবো। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিমান থেকে নামার পর পুলিশ বাসে করে নিয়ে এসছে। কেন কোথায় কি কারনে নিয়ে এসছে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রয়োজনে লন্ডনের সাথে বাংলাদেশের ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে বলেন তারা। তবুও এভাবে প্রবাসীদের হয়রানী না করার অনুরোধ জানান তারা।
তবে সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকা করো পক্ষেই ভাললাগার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আমাদের প্রবাসীরাও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাইবেন না। তবে সবাইকে জাতির স্বার্থে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *