২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন নেই দোহার পৌরসভায়!

সারাবাংলা

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার দোহারে অবস্থিত দোহার পৌরসভা। রাজধানীর নিকটবর্তী দেশের প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। পৌরবাসীর অভিযোগ, এক শ্রেণি’র প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, পৌরসভায় তাদের নিজস্ব বলয় তৈরী করে, নিজেরা বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতীক সুবিধা নিচ্ছে। পৌরসভা যাতে নির্বাচনের পথে এগিয়ে না যায়, তার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে বার বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছেন বলে পৌর নাগরিকদের অভিযোগ। ফলে পৌরবাসী দীর্ঘ ২০ বছর তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

দোহার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, দোহার উপজেলার পুরাতন জয়পাড়া ইউনিয়ন, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সীমানা জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়।

২০১৩ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের ঠিক ৩ দিন আগে চরলটাখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুস সোবাহান ও কাঁঠালিঘাটা গ্রামের মৃত ফায়জুদ্দিন বেপারির ছেলে মজিবর রহমান পৌর এলাকার সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। এরপর পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।

গত বছর দায়েরকৃত মামলাগুলো বাদীগণ ২০১৯ সালে তুলে নেওয়ায়, ৯০ দিনের মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেছিলো উচ্চ আদালত। বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশের কপি ৫আগস্ট২০১৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন ১৪অক্টোবর ২০১৯ সালে দোহার পৌরসভার ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে। নির্বাচনে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো রেজাউল ইসলাম সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

নির্বাচনের তফসিল অনুসারে ১২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন, ১৫ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ২০ সেপ্টেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়। প্রায় ৫৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত দোহার পৌরসভার সিমানা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতার অবসান হয় গত বছর। কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন। ১৪ অক্টোবর ২০১৯ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলে ওই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারনে, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জবাবদিহিতা নেই বলে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, মৃত্যু সনদ নিয়ে পৌরবাসীর রয়েছে একাধিক অভিযোগ। দোহার জয়পাড়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করলেও ট্রেড লাইসেন্স পেতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতি বছর। এছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথাও জানান তারা। এছাড়া জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট তুলতে বিড়াম্বনার অন্ত নেই বলেও জানা যায়। জয়পাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, একটি জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট আনতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে।

দোহার নির্বাচন অফিস কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, দোহারবাসীর সহযোগীতায় যে কোন সময় নির্বাচন হলে, আমাদের অফিসের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সিমানার নির্ধারনের বিষয়ে কাজ করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এছাড়া পৌরসভা সংলগ্ন তিনটি ইউনিয়নে নির্বাচন না হওয়াতে অধিকাংশ কাচাঁপাকা সড়কের বেহাল দশা চলছে দীর্ঘদিন। গ্রামীণ অবকাঠমোর উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনিয়মের কোন সঠিক তদারকি না থাকায় জনভোগান্তী যেন পিছু ছাড়ছে না ।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, নির্বাচন করবো না। এখন বয়স হয়েছে আমার, তিনি জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, মৃত্যু সনদ নিয়ে পৌরবাসীর অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *