বিশ্বে ২৪ ঘন্টায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু

আন্তর্জাতিক

ডেস্ক রিপোর্ট : চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে দৈনিক মৃত্যুতে সবার ওপরে রয়েছে রাশিয়া। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ হাজার ৭১৭ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু কমেছে ২ হাজারের বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৫ জনে।

এছাড়া, একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫১ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৬২৯ জন এবং মারা গেছেন ৫৭৬ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৩ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৮ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে বিশ্বে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭৯৬ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৭৮০ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৯ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৭ জনের।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭২৫ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ হাজার ৪০৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫ হাজার ২৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২২১ জনের।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬০৯ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮০৪ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬২ জনের।

এদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১১ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৯২৪ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫১৫ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪০৪ জন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫১ লাখ ৩ হাজার ৫৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৬৪ জন মারা গেছেন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩৯ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭২৭ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৬১৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৯ জনের।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৪২ জন, যুক্তরাজ্যে ৬৯ লাখ ৪১ হাজার ৬১১ জন, ইতালিতে ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ জন, তুরস্কে ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৩ জন, স্পেনে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৫ জন এবং জার্মানিতে ৪০ লাখ ৫ হাজার ৪৯৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১৪ হাজার ৮৫৬ জন, যুক্তরাজ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার ১৬১ জন, ইতালিতে এক লাখ ২৯ হাজার ৪৬৬ জন, তুরস্কে ৫৭ হাজার ৮৩৭ জন, স্পেনে ৮৪ হাজার ৭৯৫ জন এবং জার্মানিতে ৯২ হাজার ৮৪৯ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *