২৪ বছর পর বন্ধ হচ্ছে অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ার

তথ্য প্রযুক্তি

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক: ব্রাউজার প্লাগ-ইন অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে অ্যাডোবি।

এখন থেকে সফটওয়্যারটির কোনো সিকিউরিটি আপডেট পাওয়া যাবে না। ১২ জানুয়ারি থেকে এতে কোনো ভিডিও ও অ্যানিমেশন চলবে না। ব্যবহারকারীদেরকেও পিসি থেকে ফ্ল্যাশ প্লেয়ারটি আনইন্সটলের অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাডোবি।

সফটওয়্যারটি উন্মোচিত হয় ১৯৯৬ সালে। অনলাইনে ভিডিও দেখা ও গেইম খেলার কাজে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করতেন ব্যবহারকারীরা। সে সময় ডায়াল আপ কানেকশন দিয়ে ইন্টারনেট কানেক্ট করতে হতো। এতে সময় লাগতো বেশি। মালন্টিমিডিয়া কনটেন্ট যেমন ভিডিও, অ্যানিমেশন, অডিও সব কিছুই তুলনামূলকভাবে দ্রুত ডাউনলোডের সুযোগ দিতো অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ার।

২০০৯ সালে ইন্টারনেটে সংযুক্ত ৯৯ শতাংশ কম্পিউটারেই সফটওয়্যারটি ইনস্টল্ড ছিলো। তবে ফ্ল্যাশ প্লেয়ারটি যে বেশি দিন টিকবে না তা আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিলেন অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। ২০১০ সালে জানান, আইফোন ও আইপ্যাডে ফ্ল্যাশপ্লেয়ার চলবে না।

কেনো চলবে না তার ব্যাখ্যা দিতে অ্যাডোবির উদ্দেশে এক খোলা চিঠি লেখেন স্টিভ। সেখানে তিনি জানান, অ্যাডোবির উচিত এইচটিএমএল৫ টুল তৈরিতে মনোযোগী হওয়া। পুরানো প্রযুক্তিকে অ্যাপল কেনো বিদায় জানাচ্ছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।

স্মার্টফোনের যুগ শুরু হলে আসলেই সফটওয়্যারটির প্রয়োজন কমতে শুরু করে। ২০১১ সালে মোবাইল ডিভাইসের জন্য ফ্ল্যাশ প্লেয়ার বানানো বন্ধ করে অ্যাডোবি। কম্পিউটারে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার সচল থাকলেও নিরাপত্তাজনিত নানা ত্রুটি দেখা দেয়।

২০১৫ সালে অ্যাপল তাদের সাফারি ওয়েব ব্রাউজারে প্ল্যাগ ইনটি ডিজ্যাবল করে দেয়।  গুগল ক্রোমও ফ্ল্যাশ কনটেন্ট ব্লক করতে থাকে। এরপর ২০১৭ সালে অ্যাডোবি জানায়, ২০২০ সালে সফটওয়্যারটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ফ্ল্যাশ কনটেন্টগুলো সংরক্ষণে রাফেল নামের একটি প্রকল্প চালু হয়েছে। এর আওতায় এমন একটি সফটওয়্যার নির্মিত হচ্ছে যা ওয়েব ব্রাউজারে প্ল্যাগ-ইন ছাড়াই ফ্ল্যাশ কনটেন্ট চালাতে পারবে। ইন্টারনেট আর্কাইভেও পাওয়া যাবে ২ হাজার ফ্ল্যাশ কন্টেন্ট।

কীভাবে উইন্ডোজ ও ম্যাক পিসি থেকে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার আনইন্সটল করতে হবে তা নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে অ্যাডোবি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *