৫৪ ধারায় প্রবাসী গ্রেপ্তার: ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট আসেনি ২ মাসেও

জাতীয় সারাবাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই কারাগারে আটক আছেন বিদেশফেরত ৩৮৪ বাংলাদেশি কর্মী। বিদেশে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে গত ২ মাসের মধ্যে চার দফায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

দেশেও অপরাধ করতে পারেন সন্দেহে তাদের ৫৪ ধারায় আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরমধ্যে ৩৯ জনকে মঙ্গলবার জামিন দেয়া হয়েছে। মামলা ছাড়া প্রবাসীদের আটকে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

কাজের নামে প্রতারণার দায়ে গেলো ১৮ই আগস্ট ভিয়েতনাম থেকে দেশে ফেরেন ১০৬ প্রবাসী বাংলাদেশি। বিমানবন্দর থেকেই ১৪ দিনের জন্য তাদের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়। কোয়ারেন্টিন শেষে বাড়ি না পাঠিয়ে তুরাগ থানা পুলিশ অপরাধ করতে পারে সন্দেহে অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের মধ্যে ৮৩ জনকে কারাগারে পাঠায়।

রাস্ট্রপক্ষ বলছে বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিশেষ বিবেচনায় সাধারণ ক্ষমায় দেশে ফিরেছেন এসব প্রবাসী। এমনকি কোয়ারিন্টিনে থাকাকালেও অপরাধ করতে নানান শলা পরামর্শ করেছেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ বলেন,’কি অপরাধ ছিল তাদের সে বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষ হলেই জামিনের ব্যবস্থা করা হবে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।’

আসামি পক্ষের আইনজীবীর দাবি বিদেশে অপরাধের কোন প্রমাণ দেখাতে পারেনি রাস্ট্রপক্ষ। আসামি পক্ষের আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত জানান,’একের পর এক সময় দেবার কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে একটি সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে যে মানুষগুলো দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলো তারা বিনা বিচারে ৭২ দিন ধরে আটক রয়েছে।’

এছড়া গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে এসে আরো ৩০১ জন ৫৪ ধারায় আটকের পর কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুয়েত ফেরত ১৪১ জন, কাতার ফেরত ১২১ জন ও বাহরাইন ফেরত ৩৯ জন। তাদের কারো বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ।

ব্লাস্ট এর চিফ লিগ্যাল এডভাইজার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক বলেন,’আজ পর্যন্ত আদালতের কাছে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি যে, কবে কোথায়, কিভাবে তারা অপরাধ করেছে। আজ পর্যন্ত তারা কোন বিদেশি জিডি বা কোন কিছুই তারা আনতে পারেনি। এটা শুধু সন্দেহ। আটকিয়ে রাখার জন্য এ কাজগুলো করা হচ্ছে।’

৫৪ ধারায় আটকএর ব্যাপারে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও বারবারই ব্যতয় হচ্ছে। এছাড়াও মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *