লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ট্রেজারার ও ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ)।
এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো ভিসি পেল নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত রবিবার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভিসি পদে যোগদানের সুবিধার্থে তাকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্তানুসারে, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী ৪ বছর অথবা অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে ৫৬ নং বিলের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ‘লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শিগগিরই পূর্ণমাত্রায় গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) ১৯৭৪ সালের ১০ এপ্রিল নোয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লার ব্রাদার আন্দ্রে’স হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং এমএসসি (থিসিস গ্রুপ) ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (IIUC) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (CUET) শিক্ষকতা করেন। এরপর ২০০৬ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
দেশী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খ্যাতনামা জার্নালে তার ২৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ গণিত সমিতির একজন আজীবন সদস্য।
নতুন উপাচার্যের হাত ধরে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত একটি আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জেলাবাসীর।