এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির দুইটি আসনই এখন বেশ সরগরম। উঠান বৈঠক, মাইকিং আর গণসংযোগসহ প্রচার প্রচারনায় মুখোর শহর-গ্রাম সবখানে।
প্রার্থিদের সবারই তৎপরতাই চলছে পুরোদমে। তবে মাঠের বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত বিএনপিই এগিয়ে রয়েছে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জামায়াত জোটের সঙ্গী না হওয়ায় আসন দুটিতে ইসলামীমনা ভোটে ভাগ বসাচ্ছে তালপাখার বাতাস। নির্বাচনের মাঠ বলছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে।
সুগন্ধা আর বিশখালি নদী পাড়ের ৪ উপজেলা নিয়ে দেশের দখিন জনপদের জেলা ঝালকাঠি। এ জেলায় ২ দুটি সংসদীয় আসন। এরমধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-১ এবং জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে
ঝালকাঠি-২ আসন গঠিত। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১ হাজার ৯৭৩ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ২৭ জন। ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।
এরমধ্যে ঝালকাঠি- আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ২২৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৫১১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৭১২ জন। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
অপরদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৮ জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৯ জন। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
ঝালকাঠি-১
ঝালকাঠি-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বীর উত্তম মেজর (অব.) মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর জয়ী হন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হন এবং বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।এবার এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি ২০০৮ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রথম দফার প্রার্থী পরিবর্তন করে দ্বিতীয় দফায় ফয়জুল হককে মনোনয়ন দেয়। বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়া ফয়জুল হক পরিবারিক ও ধর্মীয় ভাবে এলাকায় বিশেষ ভাবে পরিচিত। তবে ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
ঝালকাঠি-১ আসনটিতে মোট প্রার্থি ১০ জন। এরা হলেন, বিএনপির ধানের শীষে রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ড.ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদি, জেএসডির তারা প্রতীকে মোঃ সোহরাব হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মোঃ কামরুজ্জামান খান, বাইসাইকেল মার্কায় জাতীয় পার্টির (জেপি ) মোঃ রুবেল হাওলাদার, ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরগ মার্কায় মোঃ সাব্বির আহমেদ ও হাস প্রতীকের এম মঈন আলম ফিরোজী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঝালকাঠি-২
ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। আগে সংসদ সদস্য থাকায় এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আসনটিতে তার প্রয়াত স্বামী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভূট্টো ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। যে কারণে ভূট্টোর জন্মস্থান অর্থাৎ স্বামীর উপজেলা নলছিটিতে ইলেন ভূট্টোর একটি ভোট ব্যাংক তৈরি হয়ে আছে।
অপরদিকে এই ঝালকাঠি-২ আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী থেকে এসএম নেয়ামুল করিম প্রার্থী হয়েছেন। পরিচিতির দিক থেকে তিনি কিছুটা পিছিয়ে। স্থানীয়দের মতে, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির প্রভাব এখানে স্পষ্ট। এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইসলামী বক্তা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজীরও ঝালকাঠি-নলছিটিতে ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। রয়েছে ব্যপক সংখ্যক কর্মী-সমর্থকও। তবে সেটি বিএনপির জন্য ভোটের মাঠে বড় প্রভাব না ফেলেও জামায়াতের জন্য একটি বড় দুর্বল দিক বলে মনে করছেন ভোটাররা।
আসনটিতে মোট প্রার্থি হয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, দাঁড়িপাল্লায় জামায়াতের শেখ নেয়ামুল করিম, হাতপাখায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, তারা প্রতীকে জেএসডির মাসুদ পারভেজ, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থি কলস প্রথীকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার ও মোটরসাইকেল প্রতীকে সৈয়দ রাজ্জাক আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে ঝালকাঠি-২ এ সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম আল হাদি জামায়াত মনোনীত প্রার্থিদের ভোট ব্যাংকে হানা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুলাই আন্দোলনে ইসলামীক দলগুলো এক কাতারে থাকায় আসন দুটিতে ইসলামীমনা ভোটারদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই বরিশাল বিভাগ জুড়ে তালপাখার নিজস্ব কর্মীসমর্থকরা সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াত জোটে তারা না থাকায় এবার ইসলামীমনা ভোট ভাগ হয়ে যাবে, যা জামায়াতের জন্য ভোটের মাঠের একটি বড় দূর্বলতা বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটারা।