মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে সরে গেছে। এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটিকে ‘চীন-কেন্দ্রিক’ হিসেবে সমালোচনা করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ডব্লিউএইচও মহামারির সময় যথাযথভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, মহামারি চলাকালীন ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম ‘ভুল পরিচালনা’ করা হয়েছিল, সংস্থা সংস্কারের জন্য প্রস্তুত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান ‘বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য ক্ষতিকর’ হতে পারে।
ডব্লিউএইচও পোলিও, এইচআইভি/এইডস, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বৈশ্বিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। মহামারির পরে সংস্থা একটি আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিল, যা ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন ও ওষুধের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করবে। এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেনি, তবে বিশ্বের অন্যান্য সব দেশ সমর্থন দিয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ডব্লিউএইচওর অন্যতম বড় দাতা। তবে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের জন্য দেশটি আর অর্থ প্রদান করেনি। এর ফলে সংস্থার মধ্যে কর্মী কমে গেছে এবং বাজেটে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংস্থার আইনজীবীরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বকেয়া প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে বাধ্য, কিন্তু ওয়াশিংটন এই দাবি অস্বীকার করেছে।
মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ডব্লিউএইচও তার মূল মিশন ত্যাগ করেছে এবং মার্কিন স্বার্থের বিপরীতে কাজ করেছে। তাই আমাদের ডব্লিউএইচওর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত থাকবে। তবে তারা বলেছে, পোলিও ও এইচআইভি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এনজিও ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি যে তারা বার্ষিক গ্লোবাল ফ্লু ভ্যাকসিন বা অন্যান্য রোগ নজরদারি কার্যক্রমে তথ্য বিনিময় ও বিকাশে অংশ নেবে কি না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান ডব্লিউএইচওর বাজেটের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমিয়ে দেবে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ ও মহামারির প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের আসন্ন বোর্ড সভায় (২-৭ ফেব্রুয়ারি) আলোচ্যসূচিতে থাকবে। সংস্থা বলেছে, তারা গাইডলাইন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে গভর্নিং বডির পরামর্শ অনুযায়ী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক মহামারি প্রতিক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওর অন্যতম অর্থ এবং প্রযুক্তির বড় উৎস ছিল।