ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভারতে চলে যাওয়া ভোলার লালমোহনের ১৩ জেলে প্রায় ৩ মাস পর স্বজনের কাছে ফিরছেন। শনিবার মংলা বন্দর দিয়ে নেমে তারা সন্ধ্যায় লালমোহনে পরিবারের কাছে ফিরেন।
পরে পরিবারসহ জেলেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের বাসভবনে গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন- আছমত মাঝির ছেলে ট্রলার মালিক মো. ফারুক (৫৩), আব্দুল মালেকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮), মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. শামিম (২৩), মো. হানিফের ছেলে মো. খোকন (৩৫), মো. সবুজের ছেলে সজিব (২২), আছমত আলীর ছেলে মো. আলম (৪৬), মফিজুল হকের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪০), জয়নাল আবেদীন মোল্লার ছেলে মো. ফারুক (৪২), আবুল কাশেমের ছেলে মাকসুদুর রহমান (৪২), মো. ভুট্টুর ছেলে মো. ছাব্বির (২৫) ও মো. নাছির, আব্দুল মালেক ও মো. মাকসুদ। তারা সবাই লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের কুলচড়া গ্রামের বাসিন্দা।
গত ১১ নভেম্বর লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী বাত্তিরখাল এলাকা থেকে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামে একটি ফিশিংবোট নিয়ে ৫ দিনের প্রয়োজনীয় বাজারসহ ট্রলার মালিক মো. ফারুক মাঝির নেতৃত্বে ১৩ জন জেলে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। তারা চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে গিয়ে থামেন। সেখান থেকে ট্রলারে বরফ নিয়ে ফের সাগরের উদ্দেশে রওনা হন তারা। পরের দিন থেকে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ট্রলারটি। এর পর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ পায়নি পরিবার। পরিবারের সদস্যরা তাদের সাথে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করে বন্ধ পায়। ২০ দিন পর জেলেরা ১ ডিসেম্বর ভারতের একটি উপকূল থেকে ইমো নম্বরে ফোন দিয়ে তারা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে চলে গেছে বলে জানায়। পরে পরিবার আশ্বস্থ হয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। জেলেদের ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেন লালমোহন ও তজুমদ্দিনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
জেলেরা জানান, সমুদ্রের ঢেউ ভেদ করে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এতচারলা উপকূলে। একদিকে শ্রীলংকায় ঘূর্ণিঝড় অন্যদিকে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ২০ দিন ধরে তারা গভীর সাগরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন। পরে ভাসতে ভাসতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে পৌছলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার পর তাদেরকে অন্ধ্রপ্রদেশ মেরিন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০ দিন পর উপকূলে পৌছেই ১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ইমো এপস থেকে বাংলাদেশে পরিবারের সাথে কথা বলেন জেলেরা। পরে ভারত ও বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আদান প্রদানের পর শনিবার তারা ফিরে আসেন।