কপ৩০-এ বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত “১.৫°C অ-আলোচনাযোগ্য: দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশি তরুণদের আহ্বান” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের ডায়ালগে বাংলাদেশি তরুণ জলবায়ু নেতারা একত্রিত হয়ে বিশ্বকে জানালেন—১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্য রক্ষা ছাড়া মানবতার জন্য কোনো নিরাপদ ভবিষ্যৎ নেই। ব্রাইটার্স, বাংলাদেশ ইউথ ক্লাইমেট কোয়ালিশন, ক্লাইমেট সিটিজেন নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ কপ এ উদ্যোগটি আয়োজন করে।
ব্রাজিল সময় দুপুর ১২:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ সেশনটিতে অংশ নেন তরুণ নেতা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, একাডেমিয়া, সরকারি কর্মকর্তা এবং সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা। আলোচনায় উঠে আসে জলবায়ু সংকটের তীব্রতা, বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এর অসম প্রভাব এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যতের জন্য জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা। ইভেন্টটি সঞ্চালনা করেন ব্রাইটার্স-এর ফারিহা ঔমি, এবং মূল উপস্থাপনা দেন ব্রাইটার্স-এরই সাইদুর রহমান সিয়াম, যেখানে তিনি সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য, বৈশ্বিক নীতি ঘাটতি এবং তরুণদের নেতৃত্বে ন্যায্য ও দ্রুত রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক নির্গমনে আমাদের অবদান খুবই কম। ১.৫°C লক্ষ্যটি বাংলাদেশের জন্য কোনো সংখ্যাগত লক্ষ্য নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের রেখা। তাই বড় নির্গমনকারী দেশগুলোকে দ্রুত ডিকার্বোনাইজেশন, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতির (Loss & Damage) সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগামী বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশন (ইআরডি) একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে, এবং সেরা দশজন অংশগ্রহণকারীকে দেওয়া হবে পার্টি ব্যাজ। এই উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে এবং দেশের জলবায়ু-সাড়া-দেওয়া অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের ভূমিকা শক্তিশালী করবে।”
ব্রাইটার্সের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান সিয়াম কপ৩০-এর এই উচ্চপর্যায়ের তরুণ ডায়ালগ আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন: “আমাদের লক্ষ্য তরুণদের পক্ষ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া—প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫°C লক্ষ্য থেকে কপকে আমরা দূরে যেতে দিতে পারি না। এটি আমাদের বেঁচে থাকার সীমা, এবং বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকতে হবে।”
ইভেন্টটি আয়োজন করে ব্রাইটার্স, বিওয়াইসিসি ও ক্লাইমেট সিটিজেন নেটওয়ার্ক। সহযোগী সংস্থার মধ্যে ছিল ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ওএবি ফাউন্ডেশন, ফুটস্টেপ ইয়ুথনেট গ্লোবাল। কৌশলগত সহযোগী হিসেবে ছিল একশনএইড বাংলাদেশ, ক্যাপস, সচেতন ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।
ইভেন্টের শেষাংশে তরুণ নেতারা এক যৌথ শক্তিশালী বার্তা দেন— ভবিষ্যতের কপ সম্মেলনগুলোতে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য দ্রুত, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখনই বিশ্বনেতাদের নিতে হবে।