আজ সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণসাক্ষরতা অভিযান এর আয়োজনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশে এসডিজি-৪ অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ: আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী।
মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুর রউফ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মানসম্মত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। দারিদ্রতা, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, জলবায়ু ঝুঁকি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষক সংকট শিক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, চা-বাগান, চর, হাওর, পাহাড়ি অঞ্চল, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে এসডিজি-৪ অর্জনে বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ, সর্বজনীন স্কুল মিড ডে মিল কর্মসূচি, শিক্ষকদের মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্তরে সার্বজনীন সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সভায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কনসালটেশন কমিটি এবং মাধ্যমিক শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন এডুকেশন লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপ (ইএলসিজি) এর কো-চেয়ার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর সভাপতি ডাঃ ফওজিয়া মোসলেম, গাজা ফেরত একজন প্রবাসী তরুণ চিকিৎসক হিউম্যানিটারিয়ান এইড ওয়ার্কার ডাঃ নাহরীন আহমেদ, রাইটস টু ইনডিপেন্ডেন্ট এর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আসমা বেগম, খুলনার ডুমুরিয়ার ইয়ূথ ক্লাবের সভাপতি লোকনাথ বিশ্বাস। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযান এর উপ-পরিচালক তপন কুমার দাশ।
সভায় শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা নিয়ে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপ, ইয়ূথ গ্রুপ, গার্লস ফোরাম, পরিবেশ ক্লাব, ডিবেট ক্লাবের সদস্য এবং প্রবাসীসহ দুই শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সভা থেকে শিক্ষার উন্নয়নে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সকলের থেকে প্রাপ্ত একটি সুপারিশমালা আগামী সরকারের কাছে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় বক্তারা সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন, টাস্কফোর্স ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন, এসডিজির বাইরে শিক্ষাকে অতি গুরুত্বপূর্ণ খাত ঘোষণা করে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, পার্লামেন্টরি ককাস, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে শিক্ষা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা, দূর্যোগপূর্ণ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ, আধুনিক বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় বা ট্রেডে শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স চালু করা, জব লিংকেজ করে দেয়া, কারিকুলাম নিয়ে বারবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত নেয়া, শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের পারফর্মেন্স র্যাংকিং করা, স্থানীয়ভাবে শিক্ষা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিকেন্দ্রীকরণ করা, প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করার দক্ষতা অর্জন করা, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি গবেষণার তথ্যকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করা, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে ব্যবহার করা, মাদ্রাসা, কেজি এবং এনজিও স্কুলগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা, পাঠ্যক্রমে কারিগরি বিষয়ের পাশাপাশি সংগীত ও চারুকলার মতো সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, ঝরে পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সর্বজনীন মিড-ডে মিল চালু করা, জেন্ডার বাজেট নারীর শিক্ষা ও মানোন্নয়নে ব্যবহার করা, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী এবং পিছিয়ে জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদানসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন সারাদেশ থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা।
সভার শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে আগত এসেডা সংস্থার আদিবাসী সাংস্কৃতিক দল তাঁদের নিজস্ব ভাষার গানের সাথে দুটি নৃত্য পরিবেশন করে।