যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে হাড়কাঁপানো শীত, হিমশীতল বৃষ্টি এবং ভারী তুষারঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক ফুট পুরু তুষারের আস্তরণ জমেছে। এই ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও কিছু এলাকায় চরম শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শীত ও তুষারঝড়ের কারণে দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এভিয়েশন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পর্যন্ত নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ১৯ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য দেখায়, ৫ হাজার ২২০টি ফ্লাইট বাতিল এবং সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর আগে রোববার ১১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়, যা মহামারির পর এক দিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। মঙ্গলবার আরও অন্তত ২৮৫টি ফ্লাইট আগাম বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। সোমবার তাদের ১ হাজার ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল এবং ১ হাজার ১৩০টি বিলম্বিত হয়। এর বাইরে রিপাবলিক এয়ারওয়েজ, জেটব্লু ও ডেলটা এয়ারলাইনসও ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে বরফ জমে যাওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে। তবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা দিনরাত কাজ করছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, তুষারপাত, বরফ জমে যাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে বোস্টন, নিউইয়র্কসহ বড় বিমানবন্দরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ ৭১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিমান সংস্থার কাছে সাহায্য চেয়ে যাচ্ছেন।
আর্থিক ক্ষতির দিক থেকেও এই ঝড় বিশাল প্রভাব ফেলবে। আবহাওয়ার ওয়েবসাইট আকুওয়েদার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলের দাবানলের পর এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ ১০৫ থেকে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।