জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অধিবেশন ডাকার সময় ছিল ৩০ দিন।
নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সেই সময় পার হয়ে গেছে গত ১৫ মার্চ। তবে রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেননি। এমনকি এই পরিষদের জন্য বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট শপথ নিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারদলীয় এমপিরা সেই শপথও নেননি।এর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ অকার্যকর হয়ে গেলেও সংস্কারের আশা শেষ হয়ে যায়নি। কারণ জাতীয় সংসদ হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন ফোরাম। আর সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জাতীয় সংসদেরই রয়েছে সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদের মূল বিষয়বস্তুসমূহ সংবিধানে সংশোধনী আকারে আনা সম্ভব। আর জাতীয় সংসদে সংশোধনী আনা হলে সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে তা আরও বেশি শক্তিশালী ও স্থায়িত্ব পাবে বলে মনে করেন তারা।
জুলাই সনদ আদেশের প্রেক্ষাপট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে।
সেই সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যার বিচার হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী শাসন কাঠামোয় অধিকতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপারিশের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেসব কমিশনের রিপোর্ট দাখিলের পর ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
সেই ঐকমত্য কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ১৬৬টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২৫টির বেশি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে।রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পরও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। তবে বিএনপিসহ বামপন্থী দলগুলো বলে, জাতীয় সংসদ ছাড়া এই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। এর মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৯টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর জাতীয় সংসদের নির্বাচন দাবি করে। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ জারি করেন।
সেই আদেশের ৭ ধারায় এই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, (১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে— (ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (constituent power) প্রয়োগ করতে পারবে, (খ) উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; (গ) পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
এই আদেশের ৮ ধারায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের আলাদাভাবে একটি শপথ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে শতকরা ৬৮ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের ওপর ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের জন্য সরকার প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি শপথ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যতক্ষণ জুলাই সনদ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয়ে সংবিধানের অংশ না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এমন কোনো শপথ গ্রহণ করবেন না। এটাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে একই দিনে জামায়াত ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা জাতীয় সংসদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলাবস্থায় গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যেই বিতর্ক উঠেছে— জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ কি তবে অনিশ্চয়তায় পড়ল? এ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এর মধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এই বিতর্ক হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে। এটি জারি করা হয়েছে ১৩ নভেম্বর ২০২৫। এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন ডাকা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আদেশে বলা রয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এটি গঠন হয়নি। যে পদ্ধতিতে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে, সেই একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ আদেশ অনুসারে তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি সরকারি দল থেকে বক্তব্য আশা করছেন।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে বা সংবিধান পরিবর্তন হবে; এ রকম কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়। কিন্তু এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ), এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন; মাঝামাঝি জিনিস। সেদিন আমি বলেছিলাম, এটা হয়তো নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদের আহ্বানও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেছেন। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না বিধায় তা করেননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তারপরও গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ, ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখানে প্রথম দিনেই উত্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে। আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রস্তাব দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তারা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে তারা সম্মান করেন। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে, কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটি বিশাল আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন। তিনি সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সলিউশন দেওয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিশ দেবেন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেব।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হলেও জাতীয় সংসদ ইচ্ছা করলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত সাংবিধানিক নিয়মেই। বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন হবে তা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে। তাই সেই নিয়ম অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকার দল হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোকে একত্রিত করে তার আলোকে জাতীয় সংসদেই সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা সংস্কার আনা সম্ভব।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন,‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সংসদ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তারা এ ব্যাপারে একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। সেখানে তারা একটি পদ্ধতি বের করে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এক্ষেত্রেও সংসদ চাইলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বের করতে পারে। সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ না হলেও সংস্কারের পথ বন্ধ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন,সংস্কারের পথ এখনও খোলা আছে এবং তা সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই সম্ভব। কারণ কেউই অস্বীকার করছে না যে, সংস্কারের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে সংসদ আলাপ আলোচনা করে সংস্কারের প্রস্তাব পাশের পর আবার রেফারেন্ডাম (গণভোট) দিতে পারে।
আর সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকেই ভিত্তিহীন বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ জারি করা হয়েছে, সেই আদেশেরই কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কারণ রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারি করার কোনো ক্ষমতাই নেই। ইতোমধ্যেই আদেশটি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাদেশ দিয়েও সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছে সেটি আইনত ও সাংবিধানিকভাবে যথাযথ। তবে বিএনপির যেহেতু এই সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন রয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে রাজনৈতিক ঐক্যমতের বিষয়গুলোকে সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করে সংবিধানে আনতে পারে। সেজন্য আগে সংসদে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয় এসেছে; যেমন দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে আনা সম্ভব। তার আগে সংসদে বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে যতোটুকু সম্ভব সংসদ বাস্তবায়ন করতে পারে। সংসদ ইচ্ছা করলে মৌলিক কিছু বিষয় ভবিষ্যতে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান সংবিধানে যুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এসব পরিবর্তনে গণভোটের প্রয়োজন পড়বে না।